১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নিয়ে। গতকাল জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, পিআর পদ্ধতি হবে সংসদের উচ্চকক্ষে।জাতি আশা করে, জাতীয় নির্বাচন ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আগে গণভোট দাবি করা দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণাকে মেনে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় নির্বাচন কমিশনও (ইসি) কিছুটা অস্বস্তিতে ছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রস্তুতিও সন্তোষজনক নয়। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইসি গতকাল থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে।অথচ ইসি ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ অনুসারে গত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেড় মাস ধরে এই সংলাপ হওয়ার কথা। সেই হিসাবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সংলাপ শেষ হওয়ার কথা। গতকাল দুই দফায় ১২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা বর্তমানে ৫৩।তাদের সবার সঙ্গে সংলাপ সম্পন্ন করতে আরো কিছুদিন লেগে যাবে। এতে রোডম্যাপের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আবার সংলাপে কাদের ডাকা হবে, তা নিয়েও দলগুলোর মধ্যে বিভেদ দেখা যাচ্ছে। ইসির বক্তব্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত দল হিসেবে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা এই সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য ডাক পাবে। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগকে এই সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না।
কিন্তু জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করছে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। গণ অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলসহ যারা ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা দিয়ে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক কোনো সংলাপে না ডাকার অনুরোধ করছি।’
অন্যদিকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি মনিটর করতে দফায় দফায় বৈঠক করে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাত্র তিন মাসের মতো সময় আছে, এই সময়ের মধ্যে এসব ক্যামেরা কেনা যাবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় এসব ক্যামেরা কেনার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এখনো সেগুলো কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ না হওয়ায় নির্বাচনের আগে সেটি পুলিশের হাতে পৌঁছবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।দেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ধুঁকছে। বিনিয়োগ হচ্ছে না। কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বেকারত্ব আকাশছোঁয়া। এই অবস্থায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। আমরা আশা করি, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলো ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেবে এবং দেশে দ্রুত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়