নিজস্ব প্রতিবেদক
যেন বিশ্বাসই হতে চাইছিল না কারও। দাফনের প্রস্তুতি চলছে, কবর খোঁড়া শেষ, মরদেহ গোসলের জন্য নেওয়া হয়েছে—ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা মুহূর্তে পুরো গ্রামকে নাড়িয়ে দেয়। যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের কুমরি গ্রাম। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল। ২৮ বছর বয়সী যুবক নূর হোসেনের মৃত্যুকে ঘিরে হঠাৎ করেই সেখানে সৃষ্টি হয় চরম চাঞ্চল্য আর রহস্য। নূর হোসেন ওই গ্রামের বাসিন্দা বারিক হোসেনের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নূর হোসেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্বজনরা তাকে দ্রুত বাগআঁচড়ার সাতমাইল এলাকার একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র—রুবা ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহসান হাবিব রানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ঘোষণায় শোক নেমে আসে পরিবারে। শুরু হয় দাফনের প্রস্তুতি। কবর খোঁড়া হয়, সব আয়োজন প্রায় শেষ। এরপর মরদেহ গোসল করানোর জন্য নেওয়া হলে ঠিক সেখানেই ঘটে যায় নাটকীয় সেই ঘটনা। গোসল করানো ব্যক্তিদের দাবি, হঠাৎ মরদেহ নড়ে ওঠে। কেউ কেউ বলেন, শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো কিছু লক্ষণও দেখা যায়। মুহূর্তেই আতঙ্ক আর বিস্ময়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। “মৃত মানুষ নড়ছে”-এই খবর ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। এক মুহূর্ত দেরি না করে স্বজনরা নূর হোসেনকে আবারও দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাকিরুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পুরো শংকরপুর ইউনিয়নজুড়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। প্রশ্ন উঠতে থাকে-যদি তিনি জীবিতই থাকেন, তাহলে কীভাবে তাকে মৃত ঘোষণা করা হলো? স্থানীয় বাসিন্দা আমজেদ হোসেন বলেন, ‘সকালে আমি নিজে নূর হোসেনের মরদেহ দেখে বাজারে যাই। পরে শুনি, সে নাকি আবার জীবিত হয়ে হাসপাতালে গেছে। বিষয়টা সত্যিই অবাক করার মতো।’ এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সচেতন মহলেও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসকের দায়িত্বশীলতা নিয়েও শুরু হয়েছে সমালোচনা। তবে অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক আহসান হাবিব রানা নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ক্লিনিকে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। আমি তার প্রেসার ও পালস পাইনি। ইসিজি করলে সব লাইন ফ্ল্যাট পাওয়া যায়। নিয়ম অনুযায়ীই মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। কেউ যদি জীবিত থাকার দাবি করে, তাহলে পোস্টমর্টেম করলেই সত্যটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।’ একটি সকাল, একটি মরদেহ আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই-জীবন ও মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক ঘটনা এখন পুরো এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অবাককাণ্ড বললেও হয়তো কমই বলা হবে।

