প্রতিদিনের ডেস্ক:
ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর রাতভর ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং জ্বালানি অবকাঠামো ও একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দু’পক্ষের সরাসরি আলোচনার কয়েক দিনের মধ্যেই এই হামলা হলো।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলে প্রায় ২০০ যাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনের বগিতে ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয় বলে জানান ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো।এই ঘটনার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘একটি ট্রেনের বগিতে বেসামরিক মানুষ হত্যা করার কোনো সামরিক যুক্তি নেই, এমন কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।’সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ধোঁয়া ওঠা বগি দেখা যায়; পরে জরুরি পরিষেবাগুলো জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।দক্ষিণের বন্দরনগরী ওডেসায় ৫০টির বেশি রুশ ড্রোনের আঘাতে তিনজন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হন বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী এই শহরটি ইউক্রেনের রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং নিয়মিতই তা রুশ হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত সপ্তাহে রুশ-ইউক্রেনীয় আলোচনার পরও জ্বালানি অবকাঠামোয় প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। তীব্র শীতে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ছেন বহু ইউক্রেনীয়। জেলেনস্কি নিজের টেলিগ্রামে লেখেন, ‘রাশিয়ার প্রতিটি আঘাত চলমান কূটনীতিকে ধ্বংস করছে এবং যুদ্ধ শেষ করতে যারা সহায়তা করছে, তাদের প্রচেষ্টাকেও দুর্বল করছে।’রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ, আলো ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হয়ে লাখো মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, রাতভর ১৬৫টি আক্রমণাত্মক ড্রোন ছোড়া হয়েছে। একইসাথে পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ অঞ্চলে একটি অবকাঠামো স্থাপনায় আঘাতের কথাও নিশ্চিত করা হয়।এদিকে ফ্রন্টলাইনে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার দাবি করেছে, তারা জাপোরিঝঝিয়া ও খারকিভ অঞ্চলে আরও দুটি গ্রাম দখল করেছে।

