ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের বাকি মাত্র পাঁচ দিন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার মধ্যে নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে। সেই হিসাবে আজকের দিন বাদ দিলে নির্বাচনী প্রচারের জন্য হাতে সময় আছে মাত্র দুই দিন (৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি)। তাই শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে সারা দেশ।
প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন। দিনে-রাতে মাইকিং চলছে। ব্যানারে ছেয়ে গেছে রাজধানীর প্রায় সব খোলা জায়গা। এর মধ্যে ভোটারদের মনে আশঙ্কা জাগিয়ে কিছু সংঘাত-সংঘর্ষ এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অনেকেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিত করতে পারাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল রবিবার থেকে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি বিধায় ৬২টি জেলার ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে নিয়মিত টহল ও যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে। গত ২০ জানুয়ারি এক লাখ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নৌবাহিনী পাঁচ হাজার এবং বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০ জন সেনা মোতায়েন করেছে। উপকূলীয় দুই জেলায় দায়িত্ব পালন করবে নৌবাহিনী। প্রধান দুটি দল ও জোটের পক্ষে এরই মধ্যে শেষ নির্বাচনী জনসভা ও ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারের শেষ জনসভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় নেতারা জানান, ব্যাপক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলের বিভিন্ন ইউনিটসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের শেষ এই জনসভাটি আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে বলে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। জানা যায়, তারিখ পরিবর্তনও হতে পারে। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যান গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী কর্মসূচিতে গতকাল ছিল পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, নড়াইল, ফরিদপুর সদর ও বোয়ালমারীতে জনসভা। আজ শনিবার তিনি হবিগঞ্জ, কুলাউড়া, সুনামগঞ্জ ও সিলেট মহানগরীতে নির্বাচনী জনসভা করতে পারেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রবিবার ও সোমবার তিনি ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগ ও গণমিছিলে যোগ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সমাপ্তি টানতে পারেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, নির্বাচনী প্রচারে ক্রমেই রাজনৈতিক দলগুলোর অসহিষ্ণু আচরণ বেড়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনগুলোতে এই অসহিষ্ণু আচরণ বহাল থাকলে তা সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা মোটেই কাম্য নয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে এবার ৪১ শতাংশ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আমরা আশা করি, গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন হবে অত্যন্ত সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর। নাজুক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ জরুরি।

