উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
শাশুড়িকে মারপিট করে আহত করাই নেশাখোর জামাইকে পিঠমোড়া দিয়ে বেঁধে রাখলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে পুলিশ জামাই পিন্টুকে উদ্ধার করেছে। জানাযায়, কয়েক বছর পূর্বে মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের চন্ডিপুর গ্রামের নূর মোহাম্মদের মেয়ের একই উপজেলার হানুয়ার গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে পিন্টুর সাথে বিবাহ হয়। তাদের সংসারের একটা পুত্র সন্তানে রয়েছে। প্রথম থেকে জামাই পিন্টু শান্ত স্বভাবের থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরে নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে। এর পর থেকে সংসারে অশান্তি দেখে দেয়। জামাই পিন্টু প্রায় তার স্ত্রীকে ধরে মারপিট করে ও তার পিতার বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসতে বলে। টাকা আনতে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে প্রায় ধরে মারপিট করে স্বামী পিন্টু। এতে প্রতিবাদ করতে গেলে জামাই পিন্টু তার শাশুড়ি জাহানারাকে মেরে গুরুতর আহত করে হাসপাতালে পাঠায়। এদিকে (১৯ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই জামাই পিন্টু তার শশুর বাড়ি যেয়ে মাতাল অবস্থায় স্ত্রী ও শ্বাশুড়ীকে বেধড়ক মারপিঠ করে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা আহত মেয়ে ও মাকে উদ্ধার হাসপাতালে পাঠাই। এবং জামাই পিন্টুকে মারপিট করে বেঁধে রাখে। এ ঘটনায় জানতে পেরে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ জামাই পিন্টুকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এবিষয়ে পিন্টুর প্রবাসী শালা আবু হানিফ জানায় আমার দুলাভাই বেশ কিছুদিন ধরে নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। যখন তখন আমার বোনকে ধরে মারপিট করে এবং পিতার বাড়ি থেকে টাকা আনতে বলে। আমার মা জাহানারা বেগম প্রতিবাদ করায় তাকেও মারপিট করে আহত করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পিন্টু আমাদের বাড়িতে এসে আমার বোন এবং মাকে মারপিট করে গুরুতর জখম করে। এ সময় আশপাশের লোকজনসহ আমরা পিন্টুকে মারপিঠ করে বেঁধে রাখে। এবং পুলিশে দেওয়ার জন্য থানায় যায়। কিন্তু আমাদের অজান্তে রাজগঞ্জ পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, নেশাখোর পিন্টুর বিরূদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমার বোনের অবস্থা খুব খারাপ। একটু সুস্থ হলেই অভিযোগটি মামলায় পরিনত করা হবে। এ বিষয়ে রাজগঞ্জ পুলিশ তদপ্ত কেন্দ্রের এস আই ইমরান হোসেন জানান, যেহেতু মেয়ে পক্ষ কোন অভিযোগ বা মামলা করেনি তাই বড় আকারে কিছু ঘটার সম্ভবনায় পিন্টুকে উদ্ধার করে আনা হয়েছে। মেয়ে পক্ষ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

