উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
নাব্যতা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত আইবুড়ি নদী। এতে প্রায় ২০ হাজার বিঘা কৃষিজমি এবং নদী তীরের অন্তত ৭০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। এমনই পরিস্থিতিতে নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পুনঃখননের দাবিতে ২৫ ফেব্রুয়ারি(বুধবার) সকাল ১০টায় রাজা প্রতাপাদিত্যর রাজধানী খ্যাত শ্যামনগরের ধুমঘাট হাটখোলা মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশন-এর সভাপতি এম. জিল্লুর রহমান।মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশন-এর সভাপতি ডা. যোগেশ মন্ডল এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন ইউপি সদস্য বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, প্রজন্ম রক্তদান সংস্থার সভাপতি আহমেদ রাজু, এসডি মিলন সংঘের শরীফ হোসেন, জেলেখালি ভাই ভাই সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার পরমাণ্য, শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠনের অল্পনা রানী মিস্ত্রি, সাইমুম যুব সংঘের সুমন হোসেন, মধুদ্যুতি মন্ডল প্রমুখ। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বিলাল হোসেন।
বক্তারা বলেন, অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ দেওয়ায় স্বাভাবিক স্রোত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে। হারিয়ে ফেলেছে পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা। এতে বর্ষা মৌসুমে দুই তীরের গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়, চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ। তারা আরও বলেন, কৃষিপ্রধান মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম জেলেখালী ও কচুখালী গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট ও দক্ষিণ শ্রীফলকাটিতে প্রায় ১৪ হাজার বিঘা জমিতে ধান, সবজি ও চিংড়ি চাষ হয়। এসব এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত আইবুড়ি নদীই ছিল কৃষি সেচ ও জীবিকার প্রধান ভরসা। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ ও পানি নিষ্কাশন দুটোই সংকটাপন্ন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হবে।বক্তারা সরকারি উদ্যোগে আইবুড়ি নদী পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তারা বলেন, নদীটি পুনরুদ্ধার করা না গেলে কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশ- সবই হুমকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

