চৌগাছা প্রতিনিধি
যশোরের চৌগাছায় দেশী-বিদেশী সব ধরণের ফলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিটি ফল সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। নিম্নআয়ের মানুষ ফল খাওয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মাঝে মাঝে সাহস করে দুই এক ধরনের ফল ক্রয় করছে। উপজেলার চৌগাছাবাজার, সলুয়া, সিংহঝুলী, পাতিবিলা, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, হাকিমপুর ও পুড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত। আঙুর ফল ৩৬০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, প্রকারভেদে খেজুর ২৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, মাল্টা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, নেসপতি ৪০০ টাকা, বেদানা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, কমলা ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, পেয়ারা ১০০ টাকা ও খেজুর ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চৌগাছা বাজারে ফল ক্রয় করতে আসা উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রমজান মাস আসলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফলসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে বিক্রি করেন। আমরা ক্রেতারাব্যবসায়ীদের কাছে অসহায় হয়ে যায়। তিনি জানান বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল থাকার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সব ধরনের মালামাল বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফল ব্যবসায়ী ভুট্র ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ফল উৎপন্ন হয় না। আমাদের ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালের সিলেট ও যশোর ফলের আড়ৎ থেকে কিনে আনতে হয়। আমাদের একটা পরিবহন খরচ আছে। তাছাড়া আমরা যখন যেভাবে ক্রয় করি, ওইভাবেই আমরা সামান্য লাভে ফল বিক্রি করি। আমরা এক প্রকার বড় ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি থাকি। এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর আহমদবলেন,বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।আমরা ইতিমধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কাগজের ভারী ঠোঙা ব্যবহার এবং মূল্য তালিকা হালনাগাদ না রাখার দায়ে দুই দোকানিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছি। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

