ডুমুরিয়া সংবাদদাতা
জাতীয় নির্বাচন শেষ হতেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হয়েছে। ঈদ ও বাসন্তী পূজা ঘিরে বিভিন্নভাবে আত্মপ্রকাশ করছেন প্রার্থীরা। নানা কৌশলে চলছে প্রচারণা। শহর থেকে পাড়া মহল্লার সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রে, কে কে হচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবার ইউনিয়ন পরিষদে? সারাদেশের ন্যায় ডুমুরিয়া উপজেলা জুড়ে চলছে এসব আলোচনা। ২০২৪ সালে একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী গাজী এজাজ আহম্মেদ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এড. মনিমুর রহমান নয়ন। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের কোন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এমনটি শোনা যাচ্ছে না। গেল সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় জামায়াত বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সব আসনে লড়াই করেছে। সামান্য ভোটে খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পরাজিত হয়েছেন। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলটি আগে ভাগেই তাদের প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। গেল ঈদের আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে খুলনা জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি এড. আবু ইউসুফ মোল্লা, ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে মাওলানা আজারুল ইসলামের স্ত্রী প্রখ্যাত আইনজীবী আবুল খায়েরের ভাইয়ের স্ত্রী ডুমুরিয়া মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষিকা সালমা আজাদকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াত। এছাড়া ১৪ টি ইউনিয়ন পরিষদের ৪ টিতে জামায়াত তাদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ধামলিয়া ইউনিয়নে মাষ্টার মোস্তাক আহম্মেদ চৌধুরী, রুদাঘরা ইউনিয়নে মাওলানা কামরুজ্জামান, শরাফপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলামের ভাই শেখ মনজিল ও মাগুরাঘোনা ইউনিয়নে মাওলানা আব্দুল হালিম। বাকি ১০ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে দাবি করেছেন উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার আহম্মেদ। অন্যদিকে বিএনপি এখনও তাদের কোন প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। তবে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছেন এড. মনিমুর রহমান নয়ন। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছেন। প্রকাশ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না দিলেও আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক মোল্লা মোশারফ হোসেন মফিজ, সাহস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা মাহাবুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য পূজা ফ্রন্টের নেতা নিত্যানন্দ মন্ডল। এড. মনিমুর রহমান নয়নের দাবি, দলের দু:সময়ে তিনি নির্বাচন করে ৪০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। ফলে সুসময়ে তিনি সহজে জয়লাভ করবেন। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম ও শেখ শাহিনুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে কোন নাম এখনও আলোচনায় নেই।এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি এখনও কোন প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তবে বিভিন্ন ইউনিয়নে প্যানা বা পোষ্টার দিয়ে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে অনেকে জানান দিচ্ছেন। যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবুও নির্বাচনী জ্বরে ভুগছে দেশ। তার উত্তাপ আছড়ে পড়ছে ডুমুরিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। সব মিলিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

