উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা দিনদিন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক খোঁজখবর অনুযায়ী, এ অঞ্চলের শত শত পরিবারের মাসিক আয় মাত্র ৮-১০ হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৪-৫ জন হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাল, ডাল, তেল, সবজি, ডিমসহ প্রতিটি প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক দফা বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষরা চরম সংকটে রয়েছে। অনেক পরিবার পুষ্টিকর খাবার তো দূরের কথা- নিয়মিত তিনবেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, যেসব পরিবার আগে সামান্য সঞ্চয়ে কোনোরকমে সংসার চালাত, তারাও এখন ঋণের বোঝা টানতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় অনেক মুদিদোকান ও এনজিওর ক্ষুদ্রঋণ থেকে ধার করে চলছেন তারা। এর ফলে তাদের আর্থিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। এরই মধ্যে শিক্ষা খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে নিম্নআয়ের পরিবারে। অনেক বাবা-মা সন্তানের স্কুলের বই-খাতা, পরীক্ষা ফি বা টিউশন ফি দিতে পারছেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ কেউ স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। পরিবারগুলো জানায়, সংকট যতই গভীর হোক-তারা প্রকাশ্যে কারো কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না। লজ্জা ও সামাজিক অবস্থানের কারণে চাইলেও মুখ খোলেন না। তাদের এই নীরব সংগ্রাম যেন অদৃশ্য দুর্ভিক্ষের চেহারা ধারণ করেছে। স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আরও বেশি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। ভিজিডি, ভিজিএফ, কমমূল্যের চাল-ডাল সরবরাহ, বিশেষ আর্থিক অনুদান এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প চালু করলে এই সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব। একজন স্থানীয় শিক্ষক বলেন, রাজগঞ্জের দরিদ্র পরিবারগুলো এমন সংকটে পড়েছে যে তারা চাইলে নিজের সমস্যাও বলতে পারছে না। সরকারি-বেসরকারি সহায়তা ছাড়া তাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। রাজগঞ্জবাসীর দাবি- এলাকার দুঃস্থ পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে, দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এনে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষেরও এগিয়ে আসা জরুরি।

