২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জ্বালানিসংকট আরো তীব্র হচ্ছে

দিন যত যাচ্ছে, জ্বালানিসংকট ততই তীব্র হচ্ছে। দেশে দেশে হাহাকার অবস্থা। শিগগির সংকট কাটবে এমন আশাও দেখা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) মনে করছে, এবারের সংকট ১৯৭০ সালের জ্বালানিসংকটের চেয়েও ভয়াবহ হবে।এমনকি করোনা মহামারিতে গোটা বিশ্ব যেমন স্থবির হয়ে পড়েছিল, এবার পরিস্থিতি তার চেয়েও খারাপ হতে পারে। এরই মধ্যে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ মাসে বিশ্বে খাদ্যের দাম ২.৪ শতাংশ বেড়েছে। বলা বাহুল্য, পরিস্থিতি এ রকম চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সবকিছুই অচল হয়ে পড়বে।সংকট মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো দেশে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। হোম অফিসের পাশাপাশি অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে চলাচলে বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানিতে কৃচ্ছ্রসাধনে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে।
সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা করা হয়েছে, ব্যাংকিং লেনদেনও সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছে। কাঁচাবাজার ও ওষুধের মতো জরুরি বিষয় ছাড়া সব দোকানপাট, শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্কুল-কলেজের সময় কমানো হয়েছে। সরকার বলছে, এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা গেলে জ্বালানি ৩০ শতাংশ সাশ্রয় হবে। জনসাধারণের উচিত সরকারের এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা।
আমাদের মনে রাখতে হবে, বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশের জ্বালানিঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, বিশ্বে জ্বালানিশূন্য হওয়ার তালিকায় প্রথমেই রয়েছে বাংলাদেশের নাম। কিন্তু চলমান সংকটের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, একটি গোষ্ঠী জ্বালানি মজুদে মরিয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি মজুদ উদ্ধারের খবর আসছে।
সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজনে জ্বালানি পাচ্ছে না। উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে। কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, ছুটির দিনেও তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকে তেল পায়নি। অনেকের জীবিকায় টান পড়েছে। ডিজেলের অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে সেচের অভাবে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষক যদি ক্ষেতে পানি দিতে না পারেন, তাহলে দেশে খাদ্যসংকট দেখা দেবে। কাজেই এই সংকটে কোন প্রয়োজনে কে কতটুকু তেল পাবে, তা সুনির্দিষ্ট করা দরকার।
ইরানে যুদ্ধ যে পর্যায়ে রয়েছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি শিগগিরই শান্ত হবে না। এ কারণে সরকারের উচিত শুধু এক-দুই মাস নয়, দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা। খবরে বলা হয়েছে, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো বিকল্প উৎস থেকে কিছু পরিমাণ তেল আসছে। এই সীমিত পরিমাণ তেল যেন যথেচ্ছ ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ফুয়েল কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অনিয়ম রোধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উচিত ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের চেয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হওয়া।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়