৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

হাদি হত্যা মামলা: অস্ত্র ব্যবসায়ী হেলালের ৩ দিনের রিমান্ড

প্রতিদিনের ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস অনুসন্ধানে গ্রেফতার অস্ত্র ব্যবসায়ী মো. মাজেদুল হক হেলালকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।বুধবার (১৫ এপ্রিল) আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালত আসামির বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে হেলালের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।গ্রেফতার আসামি মো. মাজেদুল হক হেলাল চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং-এর মালিক। তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাদি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মাইক্রো অ্যানালাইসিস পরীক্ষার মাধ্যমে অস্ত্রটির সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তদন্তে জানা যায়, ২০১৭ সালে আমদানি করা ওই পিস্তলটি রাজধানীর পুরানা পল্টনের এম আইচ আর্মস কোং থেকে চকবাজারের ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোং-এর কাছে বিক্রি হয়।তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হেলালের অস্ত্রের লাইসেন্স মূলত তার বাবা হামিদুল হকের নামে ছিল, যা ২০০০ সালে তার নামে হস্তান্তর করা হয়। লাইসেন্সটি ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করা হলেও এরপর আর নবায়ন করা হয়নি। নবায়ন ছাড়া তিনি অস্ত্রটি ক্রয় করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ওই অস্ত্রটি হেলালের কাছ থেকে কীভাবে মূল আসামিদের হাতে পৌঁছায়, সে বিষয়ে তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিগতজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ডিবির দাখিল করা চার্জশিট অনুযায়ী, মামলায় অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ছয় জন পলাতক রয়েছে।তবে ওই চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে নারাজি আবেদন দাখিল করেন।আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে।মামলার নথি অনুযায়ী, ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।১৯ ডিসেম্বর হাদির মরদেহ দেশে আনা হয়। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধের পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে দাফন করা হয়।ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করলে যা হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়া হয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়