প্রতিদিনের ডেস্ক:
দুপুরের খাবারের পর একটুখানি পান মুখে দেওয়া বাঙালির এক পরিচিত ঐতিহ্য। বিশেষ করে বয়স্কদের কাছে পানপাতা শুধু স্বাদের জন্য নয় বরং অভ্যাস ও আরামের অংশ। তবে একই পানপাতাকে যদি একটু ভিন্নভাবে উপভোগ করা যায়, কেমন হয়? গরমের দিনে সেই চেনা পানপাতা দিয়েই বানানো যেতে পারে একেবারে ভিন্ন স্বাদের, মন জুড়ানো শরবত। প্রখর রোদ আর গরমে শরীর যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন ঠান্ডা কোনো পানীয় যেন মুহূর্তেই স্বস্তি এনে দেয়। এই সময় বাজারের কৃত্রিম পানীয়ের বদলে ঘরে তৈরি প্রাকৃতিক শরবত বেশি স্বাস্থ্যকর।আসুন জেনে নেওয়াযাক পানপাতার শরবত কীভাবে তৈরি করবেন-
উপকরণ
দুধ ১ লিটার
মিষ্টি পানপাতা ১০ টি
মৌরি ২ টেবিল চামচ
চিনি বা মিছরি আধা কাপ
গুলকান্দ (এক ধরনের পান মসলা) ১ টেবিল চামচ
পেস্তা বাদাম ২ টেবিল চামচ
প্রথমেই পানপাতা ভালোভাবে ধুয়ে ছোট ছোট করে কুচি করে রাখুন। অন্যদিকে আগে থেকেই দুধ জ্বাল দিয়ে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে দিন, কারণ ঠান্ডা দুধ ব্যবহার করলে শরবতের স্বাদ অনেক বেশি ভালো লাগে। এদিকে মৌরি এক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।এরপর একটি ব্লেন্ডারে কুচি করা পানপাতা, ভেজানো মৌরি, পেস্তা বাদাম, গুলকান্দ এবং চিনি বা তালমিছরি দিয়ে অল্প পানি যোগ করে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। সব উপকরণ মিশে মিহি পেস্ট তৈরি হলে এবার সেই পেস্ট ঠান্ডা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে আবার ব্লেন্ড করুন। ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে মিশ্রণটি একটি ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। এতে পানপাতার আঁশ বা অন্যান্য শক্ত অংশ আলাদা হয়ে যাবে। শেষে একটি গ্লাসে বরফ কুচি দিয়ে তার ওপর এই ঠান্ডা শরবত ঢেলে দিন। ওপরে গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
টিপস
বেশি পরিমাণে তৈরি করতে চাইলে এই মিশ্রণটি কম আঁচে জ্বাল দিয়ে ঘন শিরা বা ‘পানের সিরাপ’ তৈরি করে ফ্রিজে প্রায় ১ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারেন। স্বাদ আরও বাড়াতে সামান্য লেবুর রস যোগ করতে পারেন।পেস্ট তৈরির সময় অবশ্যই ঠান্ডা পানি ব্যবহার করবেন। এই পেস্টটি ফ্রিজে রেখে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যাবে।যদি তৈরি পান মসলা বা গুলকান্দ না থাকে, তাহলে সহজেই ঘরেই বানিয়ে নিতে পারেন। গোলাপের পাপড়ি, চিনি, এলাচ, মৌরি এবং খেজুর একসঙ্গে থেঁতো করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক গুলকান্দ বা পান মসলা।

