প্রতিদিনের ডেস্ক:
শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় ইরানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী খ্যাতনামা মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মদি। রোববার (১০ মে) তার পরিবার পরিচালিত ফাউন্ডেশন নিশ্চিত করেছে, অসুস্থতার কারণে তাকে সাময়িকভাবে কারাগারের বাইরে থাকার অনুমতি বা জামিন দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে নার্গিসের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তার স্বজন ও সমর্থকেরা। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে কারাগারে থাকা অবস্থায় তার প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।নার্গিস মোহাম্মদি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানী তেহরানের পারস হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার নিজস্ব চিকিৎসকেরাই সেখানে চিকিৎসা প্রদান করছেন। তবে প্যারিসে অবস্থানরত নার্গিসের স্বামী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই মানবাধিকারকর্মীর শারীরিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং তার সার্বিক পরিস্থিতি মোটেও অনুকূলে নেই। নার্গিসের আইনজীবী চিরিনে আরদাকানি জানিয়েছেন, দীর্ঘ কারাবাস ও অসুস্থতায় নার্গিস প্রায় ২০ কেজি ওজন হারিয়েছেন এবং তার কথা বলতেও প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে, যার ফলে তাকে চেনাটাই এখন দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।৫৩ বছর বয়সী এই মানবাধিকারকর্মী গত বছরের ১২ ডিসেম্বর থেকে কারাগারে বন্দি ছিলেন। ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে একটি স্মরণসভায় অংশ নেওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের একটি আদালত তাকে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড প্রদান করে। আইনজীবীর দেওয়া তথ্যমতে, অপরাধ করার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এবং রাষ্ট্রবিরোধী যোগসাজশের অভিযোগে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছিল। এর আগেও তিনি ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচারমূলক কার্যকলাপ’ এবং ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগে ১৩ বছরের বেশি সাজা ভোগ করছিলেন।নার্গিস মোহাম্মদি ইরানে মানবাধিকার রক্ষা এবং নারীদের ওপর হওয়া নিগ্রহের বিরুদ্ধে দীর্ঘকাল ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই সাহসী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
দীর্ঘ কারাজীবনে তিনি চলতি বছরের শুরুতে দুইবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। অসুস্থতার তীব্রতার কারণে এর আগেও ২০২৪ সালের শেষ দিকে তাকে একবার সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে হাসপাতালে কড়া পর্যবেক্ষণে থাকা এই নোবেলজয়ীর সুস্থতা কামনায় বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরব রয়েছে।

