২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বেনাপোল স্থলবন্দরে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় আমদানি পণ্য নষ্ট

আনিছুর রহমান, বেনাপোল
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে চরম দুরবস্থা। বন্দরের অভ্যন্তরে পানি জমে যাওয়ার ফলে খোলা আকাশের নিচে থাকা কোটি কোটি টাকার আমদানি করা পণ্য ভিজে নষ্ট হচ্ছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও সুপরিকল্পিত কোন পদক্ষেপ না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমদানিকারকদের এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বন্দরের বিভিন্ন শেড ও নিচু জায়গায় পানি জমে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমদানিকৃত মূল্যবান মেশিনারি, শিল্প কারখানার কাঁচামাল এবং সুতা সহ নানা ধরনের পণ্য পানিতে নষ্ট হচ্ছে। রেল লাইনের পাশে জলাদ্ধতার কারনে পানি জমে থাকার কারনে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে আসা ট্রেন মালামাল আনলোড করতে পারছে না। অথচ প্রতিবছর এই বন্দর থেকে সরকার কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও অবকাঠামো উন্নয়নে বন্দর কর্তৃপরে তেমন কোনো কার্যকরী উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। বেনাপোল স্থলবন্দরের ৯২৫ শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী অভিযোগ করে বলেন, “গত বছরও দীর্ঘদিন পানি জমে ছিল। পরে আমি আমার শ্রমিকদের নিয়ে স্যালো মেশিন লাগিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করি। এবারও বৃষ্টি শুরু হতেই একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে পণ্য নষ্ট হচ্ছে, অথচ কর্তৃপরে কোনো ভ্রূপে নেই।” স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন ও আমদানিকারকদের অভিযোগ, বন্দর কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করলেও বাস্তবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি। পানি বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় বন্দরের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, “বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা কাজ করছি। আমি ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপ, স্থানীয় পৌরসভা এবং বেনাপোল কাস্টম হাউসের সাথে আলাপ করেছি। একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে পারলে বন্দরের পানি পাশের ইছামতী ও হাকর নদীতে গিয়ে পড়বে। আমরা দ্রুত একটি টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।” ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযুক্ত এই আন্তর্জাতিক বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না করলে ব্যবসা বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসবে এবং সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাবে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়