উন্নত ও আধুনিক নাগরিক সেবা পাওয়া মানুষের অধিকার। সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের আশায় মানুষ বিদেশেও পাড়ি জমায়। আধুনিক নাগরিক সুবিধা ছেড়ে মানুষ কখনো বিশৃঙ্খল, অস্বাস্থ্যকর, নাগরিক সুযোগ-সুবিধাহীন এবং নিরাপত্তাহীন কোনো নগরজীবনে ফিরে আসতে চায় না। তেমনটাই ঘটেছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়।এখানকার বাসিন্দারা এখানকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত উন্নত সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চিত জীবনে যেতে চায় না। ঢাকা মহানগরীর বেশির ভাগ পাড়া-মহল্লার চেহারা কী? অলিগলিসহ প্রায় সব রাস্তা ভাঙাচোরা, যেখানে-সেখানে চায়ের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ-দোকানপাট। এ ছাড়া ফুটপাত, এমনকি রাস্তা দখল করে থাকে হকারদের ভ্যানগাড়ি। তদুপরি আছে হাল আমলের মাস্তান, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের উৎপাত।পাড়া-মহল্লার আধিপত্য নিয়ে প্রায়ই ঘটে মারামারি, খুনাখুনি। রাতবিরাতে দূরের কথা, দিনেও মেয়েদের চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। চলে ইভ টিজিংসহ নানা অপতৎপরতা। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মানুষ এসব থেকে মুক্ত।বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকাটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত। কারণ এখানে শিফট ব্যবস্থায় হাজারো নিরাপত্তাকর্মী সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকছেন। ভ্রাম্যমাণ টহল থাকছে। হাজারো নিরাপত্তা ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে। সব প্রবেশপথ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় বহিরাগত সন্ত্রাসী, হকার, চাঁদাবাজ ও মাসকসেবীদের ভেতরে ঢুকে শৃঙ্খলা নষ্ট করারও কোনো সুযোগ নেই।বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শুধু প্রধান সড়ক নয়, প্রতিটি গলিপথও ঝকঝকে, তকতকে থাকে। এখানে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাই রয়েছে, কিন্তু বিচ্ছিন্ন নয়, সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো। এখানে দেশসেরা হাসপাতাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে মসজিদ-মাদরাসা, কনভেনশন সিটি, বিশ্বমানের স্পোর্টস সিটি, গলফ ক্লাব, শপিং মল, রেস্টুরেন্ট, বেশ কয়েকটি সুপারশপ, কমিউনিটি পার্কসহ উন্নত নাগরিক সেবার সব উপকরণই রয়েছে। ফলে এখানকার বাসিন্দারা সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নিরাপদে বসবাস করে, চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।সংগত কারণেই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ছেড়ে সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় যেতে চায় না। সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত না হওয়ার জন্য তারা একটি সম্মতিপত্র সই করেছে। ওই সম্মতিপত্রটির আলোকে বিষয়টি যাতে সদয় বিবেচনা করা হয়, সে জন্য বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এমপি ও মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা যৌথভাবে সই করে গত ৬ মে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক বরাবর একটি চিঠি দেন। এ ব্যাপারে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটিও ডিএনসিসিকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হোল্ডিং ট্যাক্স, সার্ভিস চার্জ পরিশোধের জন্য যে চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে, তাতে বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সোসাইটি আশা করে, প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত সব ধরনের হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিত করা হবে।আমরা চাই, ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের মানসিক ও আর্থিক অবস্থা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতামুক্ত রাখা হবে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের মতামত
আরো দেখুন
প্রস্তাবিত বাজেট
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বরাবরের মতোই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বাজেটের তীব্র সমালোচনা করছে।সরকারি দল বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে বলেছে, এই বাজেট...
বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বরাবরের মতোই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বাজেটের তীব্র সমালোচনা করছে। সরকারি দল বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে বলেছে, এই...

