মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনীতে জিয়ালা গাছের ফল খেয়ে ১৪ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ৯ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকালে তারা বাড়ি ফেরে। এর আগে, রবিবার বিকেলে উপজেলার সহড়াবাড়িয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। অসুস্থ শিশুরা হলো- মোস্তাকিন আলী (১২), কাফি হোসেন (১২), আমেনা খাতুন (৩), হালিমা খাতুন (৯), রক্তিমা খাতুন (১১), রিয়াদ হাসান (১১), ফেরদৌস (১০), ফুয়াদ আলী (১২) এবং মোস্তাকিম আহমেদ (৯)। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সোমবার (৬ জুলাই) বাড়ি ফিরেছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়। এলাকাবাসী জানান, রবিবার বিকেলে সহড়ানাড়িয়া গ্রামের ১৪ জন শিশু সড়কের পাশে থাকা জিয়ালা গাছের ফলকে কাঠ বাদাম ভেবে খেয়ে ফেলে। সন্ধ্যার পর তাদের পেটে ব্যথা ও বমি হতে শুরু করে। বিষয়টি পরিবারের লোক বুঝতে পেরে তাৎক্ষণিক তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোমবার সকালে চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের লোকজন তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, জিয়ালা গাছ বসতবাড়ি বা ক্ষেতে বেড়া তৈরির জন্য ব্যবহার হয়। এই গাছের ফল ও পাতা গরু ছাগলেও খায় না। এই ফল খেলে মানুষের ক্ষতি হয় এমনটি তারা জানেন। রবিবার এ ফল খেয়ে ১৪ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ শিশু মো. মোস্তাকিন আহমেদের মা শাহনাজ পারভীন বলেন, “আমার ছেলে বিকেলে খেলতে যায়। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি চলে আসে। এরপর তার প্রচণ্ড পেট ব্যথা ও বমি শুরু হয়। তাৎক্ষণিক গ্রামের চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ নিয়ে খাওয়ায়। এরপরও পেট ব্যথা ও বমি বাড়তে থাকে। পরে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। চিকিৎসকরা অত্যন্ত যত্ন সহকারে দেখভাল করেন। এখন আল্লাহর রহমতে আমার ছেলে ভালো আছে।” হাসপাতালে ভর্তি রিয়াদ হাসান বলেন, “খেলার শেষে বাড়ি ফেরার সময় কয়েকজন বন্ধু বলে এই ফল খেতে খুব ভালো। আমরা সবাই গাছ থেকে পেড়ে ফল খেতে শুরু করি। আমরা কিছু বুঝতে পারিনি। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর বমি ও পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরিবারকে জানালে হাসপাতালে ভর্তি করে। এখন ভালো আছি।” ষোল টাকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আফরোজা খাতুন বলেন, “গ্রামে সাধারণত এ গাছকে জিয়ালা গাছ বলে। রবিবার বিকেলে শিশুরা খেলার শেষে বাবুর আলীর পুকুরের পাশে থাকা এই গাছের ফল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে তারা বাড়ি আসে।” গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মাসুদুর রহমান বলেন, “এ গাছকে ইংরেজিতে বার্বাডোজ নাট বা স্থানীয়ভাবে জিয়ালা গাছ নামে সবার কাছে পরিচিত। এ ফল খেয়ে পেটে ব্যথা ও বমি হওয়া অবস্থায় শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করে। শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।তারা আশংকা মুক্ত রয়েছে। সোমবার সকালে পরিবারের লোকজন তাদের বাড়ি নিয়ে যায়।”
