১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

উচ্চাভিলাষী বাজেট

আগামী ১১ জুন বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট। বাজেটের আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটি প্রথম বাজেট। তাঁরা তাঁদের প্রথম বাজেটকে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি মাইলফলক হিসেবেই দেখতে চান। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা একে একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট হিসেবেই দেখছেন। বাজেটের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে তাঁরা যথেষ্ট সন্দিহান।প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞদের অভিমতে বাস্তবতার সঙ্গে বাজেটের এমন অনেক অসংগতিই উঠে এসেছে।সরকার এমন এক সময়ে বাজেট দিতে যাচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতির রীতিমতো বেসামাল অবস্থা। বিনিয়োগে স্থবিরতা চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা ধুঁকছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ কোটি টাকার ওপরে। তহবিল সংকটে সরকারকে রীতিমতো ঋণ করে চলতে হচ্ছে। এরই মধ্যে বড় অঙ্কের ব্যাংকঋণ নিতে হয়েছে। চলমান বৈশ্বিক সংকট অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেটের আকার বাড়াতে গিয়ে বাজেট ঘাটতির আকারও বড় হয়েছে। বাজেটে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এই ঘাটতি অর্থায়নে সরকারকে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত খাতের পাশাপাশি বৈদেশিক উৎসর প্রতি নির্ভরশীল থাকতে হবে। উচ্চাভিলাষী এই বাজেট সম্পর্কে বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের সামর্থ্য নেই, কিন্তু ঋণ করেই বড় এই বাজেট দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নই কঠিন হয়ে পড়বে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ঋণের পাশাপাশি তহবিল সংগ্রহে মানুষের ওপর করের বোঝাও বাড়বে আসছে বাজেটে। যেখানে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটই বাস্তবায়ন থেকে অনেক পিছিয়ে, সেখানে আরেকটি বড় বাজেটে আকার বাড়ানো হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা, শতকরা হিসাবে যা চলতি বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি। শুধু ব্যয় নয়, একইভাবে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আয়ের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘মানুষের আয় কমেছে, নতুন করদাতা তৈরি হয়নি। যাঁরা কর দিচ্ছেন, তাঁরাই দিচ্ছেন। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা বাস্তবভিত্তিক নয়। পুরো অর্থনীতি এখন চাপের মধ্যে রয়েছে, ব্যবসায়ীরাও সংকটে আছেন। এই অবস্থায় ব্যবসা সহজীকরণসহ অর্থনীতিকে আরো উন্মুক্ত করতে হবে এবং একটি বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন জরুরি। আর্থিক খাতও ভালো অবস্থায় নেই। তাই ব্যবসা, অর্থনীতি ও মানুষের ব্যয়ের সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রণোদনা দিতে হবে।’ অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল মনে করেন, সরকার যদি বাজেট ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্তভাবে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করে, তাহলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ আরো সংকুচিত হবে। এতে স্থানীয় বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই অর্থায়নের বিকল্প উৎস নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটে চমক সৃষ্টির চেয়েও বড় হচ্ছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের লাগাম টেনে ধরা। আমরাও মনে করি, অর্থনীতির স্বার্থে দেশে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সামগ্রিকভাবে উৎপাদনের পরিবেশ রক্ষা করার দিকেই অধিক মনোযোগ দিতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়