প্রতিদিনের ডেস্ক:
সীমান্ত হত্যা নিযে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দীন আহমদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, “সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর নির্বিচার হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দীন আহমেদের বক্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর এবং অপমানজনক। সরকারের দায়িত্বশীল কারো থেকে এ ধরনের বক্তব্য শোনা জাতি হিসেবে আামাদের জন্য লজ্জার।”রবিবার (৭ জুন) এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম এই তথ্য জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এ ধরনের লজ্জাজনক বক্তব্য দেয়ার তিন দিন পার হলেও সালাউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেননি। সরকারের পক্ষ থেকেও এ ধরনের বক্তব্যের কোনো নিন্দা জানানো হয়নি। এজন্য আমাদের ধরে নিতে হচ্ছে, সালাউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্যই সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান।”নাহিদ ইসলাম বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনারা যেটাকে বর্ডার কিলিং বলছেন, সে সম্পর্কে যদি আপনারা বিস্তারিত জানেন, তাহলে খুশি হব। বর্ডার কিলিং হচ্ছে যদি অন্য দেশের বাহিনী কর্তৃক আমাদের সীমান্তে অথবা জিরো লাইনে এসে কিলিং করে, সেটাকে আমরা বর্ডার কিলিং বলতে পারি। কিন্তু যদি আমাদের সীমানার অভ্যন্তরে এবং তাদের সীমানার অভ্যন্তরে কোনো রকমের কোনো অপরাধে কেউ জড়িত থাকে, যদি কেউ ইললিগ্যাল ট্রেসপাস (অনুপ্রবেশ) করে যায়, সেটা তারা (সীমান্তরক্ষী বাহিনী) কীভাবে অ্যাড্রেস করবে, তা তাদের দেশীয় আইনে করবে। এটাকে বর্ডার কিলিং বলা ঠিক হবে না।”“তার এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার একটি সহজাত অধিকার। রাষ্ট্রগুলো তাদের আইন দ্বারা এই অধিকার রক্ষা করতে বাধ্য। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের জাতিসংঘের নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র কেবল তখনই ব্যবহার করা যাবে, যখন নিজের বা অন্যের জীবন বাঁচানোর অন্য কোনো উপায় থাকবে না। চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অন্য কোনো অপরাধ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যব্যবহারের সুযোগ নেই।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “সীমান্ত হত্যা নিয়ে ইতিপূর্বে একইরকম বক্তব্য দিয়েছিলেন ফ্যাসিবাদী সরকারের পররাষ্ট্র এ কে আব্দুল মোমেন। ভারতের প্রতি শেখ হাসিনা সরকারের নতজানু নীতি এবং এর পরিণতি সর্বজনবিদিত। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী কোনো সরকারের এমন অবস্থান অগ্রহণযোগ্য ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক। আমরা অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”

