উৎপল মণ্ডল,শ্যামনগর
সুন্দরবনে গিয়ে অপহরণের শিকা
র সাতক্ষীরার শ্যামনগরের চার জেলের মুক্তি মেলেনি সাতদিনেও। ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যরা মুক্তিপণ হিসেবে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকাও দিয়েছেন। তবু দস্যুরা তাদের না ছাড়ায় স্বজনদের মনে অজানা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ৩১ মে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে ও সুবদে খাল থেকে আরও কয়েক জেলের সঙ্গে শ্যামনগরের জেলে ইয়াছিন খাঁ, শাহাজান খাঁ, শাহাজান আলী ও শরিফুলকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কালিনগরের সফিকুল ও শাহাজানের নেতৃত্বাধীন কুখ্যাত জলদস্যু নানাভাই বাহিনী শুরুতে জিম্মি চার জেলের মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে। দেনদরবারের মাধ্যমে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকায় জেলেদের স্বজনের সমঝোতা হয়।শাহাজানের চাচাত ভাই আবুল হোসেনের ভাষ্য, তুলনামূলক কম মুক্তিপণ আদায় করে জিম্মি অন্য জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে জলদস্যুরা। তবে দস্যুদের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে তাঁর ভাই শাহাজানসহ তিনজনকে এক সপ্তাহ ধরে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দস্যুরা তিনজনের জন্য মাথাপিছু ৫০ হাজার করে ও ইয়াছিনের জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে তারা ইয়াছিনের জন্য এক লাখ ২০ হাজার ও অন্য তিনজনের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে বিকাশে পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরও তাদের না ছাড়ায় সবার পরিবারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জিম্মি অন্য এক জেলের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে জাল ফেলে দুই সহযোগীর সঙ্গে নৌকায় ঘুমিয়ে ছিলেন। দস্যুরা নৌকার পাশে এসে তাঁর জামা ধরে ডাকাডাকি শুরু করে। এ সময় সহযোগীকে বাঘে ধরেছে–মনে করে লাফিয়ে উঠে ছেলে হাতের পাশে থাকা দা নিয়ে দস্যুদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে দস্যুরা। তারা মারধোর করে বেশি মুক্তিপণ দাবি করেছিল। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত মুক্তিপণ পরিশোধ করেন। কিন্তু নৌকা না পাওয়ার অজুহাতে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী কোনো সংস্থা এ বিষয়ে ন্যূনতম গুরুত্ব দেয়নি বলেও তাঁর অভিযোগ।সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, জুনের শুরু থেকে সুন্দরবনে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এসব জেলে আগেই মাছ শিকারে যান। ফিরে আসার আগে দস্যুদের কবলে পড়েন। বর্তমানে জলদস্যুদের নিয়ে কাজ করছে কোস্টগার্ড। তাদের বিষয়টি জানানো হয়। এবিষয়ে জানতে চাইলে কোস্টগার্ড মোংলা জোনের মিডিয়া বিভাগের কেউ সরাসরি বক্তব্য দিতে চাননি। এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমানের ভাষ্য, সুন্দরবনে কোনো জেলে জিম্মি হলে সহযোগীরা সমঝোতার ভিত্তিতে তাঁকে মুক্ত করার চেষ্টায় থাকেন। এ কারণে তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তারপরও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।

