উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি কবরস্থানের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভূমিহীন ও অসচ্ছল পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর পর দাফনের জন্য উপযুক্ত জায়গা না পাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজগঞ্জ এলাকায় সরকারি কবরস্থান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে জমা দেওয়া রয়েছে। এ বিষয়ে বর্তমান রাজগঞ্জ বাজার কমিটিও একসময় উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজগঞ্জে বহু ভূমিহীন ও নিম্ন আয়ের পরিবার বসবাস করে। তাদের অনেকের নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি নেই। ফলে পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে মরদেহ দাফনের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে স্বজনদের বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে ধর্ণা দিতে হয়, যা শোকাহত পরিবারের জন্য আরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজগঞ্জের একাধিক বাসিন্দা জানান, মৃত্যু মানুষের জীবনের অবধারিত পরিণতি। কিন্তু একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর তার শেষ ঠিকানা নিশ্চিত করতে যদি পরিবারকে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়, তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। রাজগঞ্জে একটি সরকারি কবরস্থান এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় সমাজসেবক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভূমির সংকটের কারণে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই বিষয়টিকে মানবিক ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, সরকারি কবরস্থান প্রতিষ্ঠা করা হলে শুধু ভূমিহীন পরিবারই নয়, পুরো এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। এটি একটি মৌলিক জনসেবামূলক অবকাঠামো। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি কবরস্থান স্থাপনের জন্য দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তারা স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। রাজগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, মানবিক এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং এলাকার সাধারণ মানুষের বহুদিনের দাবি বাস্তবে রূপ পাবে।

