‘মানুষ সবকিছু হারিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় সব ধ্বংস হয়ে গেছে’

প্রতিদিনের ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে পরিস্থিতির ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন সাংবাদিক নোরিস সোটো। তিনি জানিয়েছেন, শক্তিশালী কম্পনে মুহূর্তের মধ্যেই বহু মানুষের জীবন ও সম্পদ তছনছ হয়ে গেছে।আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোটো বলেন, “আমি বাসায় ছিলাম। অন্য দিনের মতো ছুটির দিন উপভোগ করছিলাম, বিশ্বকাপের খেলা দেখছিলাম। হঠাৎ প্রবল কম্পন অনুভব করি। এরপর চারদিকে শুধু ভাঙা কাচ দেখতে পাই। আমার ভবনের মাঝখানেই বড় ফাটল ধরে যায়।”
তিনি বলেন, “মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অ্যাপার্টমেন্ট ও ঘরবাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। আজ যা ঘটেছে, তার জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। সবাই এখনও শকে রয়েছে। কী ঘটেছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করছে।”সোটোর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকের পর দেশটিতে এ ধরনের বড় ভূমিকম্প না হওয়ায় অনেকেই বুঝে উঠতে পারছিলেন না কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।তিনি বলেন, “মনে হচ্ছিল পায়ের নিচের মাটি কেঁপে উঠছে এবং আমরা আদৌ বাঁচব কি না, তা নিশ্চিত ছিলাম না। এটি যে কারও জন্য ভীতিকর অভিজ্ঞতা। এমন পরিস্থিতি আমি কারও জন্য কামনা করব না।”
ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয় বলেও জানান এই সাংবাদিক। তার মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে।
সোটো বলেন, “টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় আমরা খুব বেশি তথ্য পাচ্ছি না। তবে যে সামান্য তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ বলে মনে হচ্ছে।”সবশেষে তিনি বলেন, “অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। বাস্তবে তারা প্রায় সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছে।”
উল্লেখ্য, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন সাত শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়