৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

অস্থিতিশীলতা কাম্য নয়

রাজনীতিতে ক্রমে উত্তাপ বাড়ছে। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ধরনের ঐক্য দেখা যেত, তা ক্রমেই লোপ পাচ্ছে। বিশেষ করে আগামী সাধারণ নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে মতভেদ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করেছে। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ দলগুলো ছাড়া কয়েকটি বাম দলও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী চায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরই নির্বাচন হোক। আর জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংস্কারের রোডম্যাপ ও গণপরিষদ নির্বাচন।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজনীতিতে পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার বার্তা দিয়েছেন। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে গত সোমবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন।
গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকাল এরই মধ্যে আট মাস পেরিয়ে ৯ মাসে পড়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ কতটা এগোল এবং কবে নির্বাচন হচ্ছে, তা এখনো খুব একটা স্পষ্ট নয়। গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টা আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ঐকমত্য কমিশনকে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং প্রথমে গণমাধ্যমকে জানায়। পরে সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনের সময় আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে বলা হয়। এর আগেও কখনো ডিসেম্বর, কখনো ডিসেম্বর থেকে মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন হতে পারে বলেও জানানো হয়।
সব কিছু মিলে নির্বাচনের দিন-তারিখ নিয়ে এক ধরনের অস্পষ্টতা রয়েই গেছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর বক্তব্যও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘রাস্তা থেকে আমাকে বলতেছে, আপনারা আরো পাঁচ বছর থাকেন।’ গত মঙ্গলবারও সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর সরকারকে ক্ষমতায় রাখার বিষয়ে আমি কিছু বলিনি, এ কথা জনগণ বলেছে।’ গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে পালিত হয়েছে ‘মার্চ ফর ইউনূস’ কর্মসূচি। ‘আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন’ স্লোগানে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে ওই কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচি থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কমপক্ষে তিন বছর করার দাবি জানানো হয়। এদিকে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পরও বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
দেশের মানুষের বিপুল অংশগ্রহণ ছিল বলেই জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান সফল হয়েছিল। সেনাপ্রধানের মতো তারাও চায়, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকুক। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অটুট থাকুক। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে সুবিধাজনক সময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুনরায় কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, এটি কারো কাম্য নয়।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়