৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা

নিরাপত্তাহীনতা গ্রাস করছে জনজীবন। ডাকাতি, চোরাচালান ও অপহরণ বাড়ছে। হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই, নারী নির্যাতনের মতো অপরাধ নিয়মিত চলছে দেশব্যাপী। কিশোর বয়সীরা হয়ে উঠছে সহিংস।একটি সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। রাজধানীসহ দেশের কয়েক শহর ও গ্রামে জননিরাপত্তার ব্যত্যয় ঘটায় এবং সমাজে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধিতে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রণালয় এবং খোদ সরকার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে চোখ রাখলেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির খবর। নাগরিকের ক্ষোভেরও শেষ নেই।
যেকোনো মূল্যে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা দূর করতে হবে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী গতকাল রবিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগরে নিজেদের ঘরের আড়ায় একই রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় মা ও শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিরাজগঞ্জে পরীক্ষাকেন্দ্রে খাতা দেখতে না দেওয়ায় সহপাঠীদের মারধরে আহত এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরো পাঁচ জেলায় পাঁচজন খুন হয়েছে এবং তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এসব ঘটনা আলাদা নয়, বরং একত্রে আমাদের সমাজের গভীর নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি। এই মা ও শিশুর মৃত্যু দেখাচ্ছে পরিবার ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যর্থতা। আবার সহপাঠীর হাতে সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় আমাদের আইন-শৃঙ্খলা তো বটেই, সামাজিক মূল্যবোধেরও বিপর্যয়কে নির্দেশ করে। স্কুল, পরিবার, রাষ্ট্র কেউ কি তাহলে আর নৈতিকতা শেখাতে পারছে না, নাকি আগের সরকারের বিচারহীনতার ধারাবাহিকতা এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সমাজে অপরাধ বাড়িয়ে তুলছে?
ঘটনাগুলো কেবল দুঃখের ঘটনা নয়, আমাদের জন্য একটি সংকেত।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায় তো সরকার এড়াতেই পারে না। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষার ভূমিকা এবং সমাজের দায়িত্বের প্রতি গভীর অবহেলার ফল হচ্ছে এসব সহিংসতা। পারিবারিক সহিংসতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহপাঠীদের মধ্যে সহিংস প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক সহিংসতা—এগুলো আমাদের ভেতরকার নৈতিকতা, সহানুভূতি ও মানবিকতাকে মেরে ফেলছে।
নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনায় পুরো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতির প্রেক্ষাপটে চলছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিশেষ তিনটি অভিযান, যার মধ্যে রয়েছে অপারেশন ডেভিল হান্ট, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাঁড়াশি অভিযান এবং যৌথ বাহিনীর অভিযান। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকারের এমন প্রচেষ্টায়ও থেমে নেই অপরাধ ও সহিংসতা। প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক অনুশাসন ও মূল্যবোধগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকের মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরি করা।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়