৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সড়কের পাশে গাছের গুড়ি ও গোড়ার গর্তে মরণফাঁদ

রেজাউল করিম, লোহাগড়া
লোহাগড়ার মধুমতি সেতুর পশ্চিম প্রান্ত থেকে নড়াইল সদর উপজেলার গাবতলা পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে গাছ কেটে নেওয়া হলেও চুক্তির শর্ত ভেঙে অনেক গাছের গোড়া তুলে ফেলা হয়েছে। কোথাও কোথাও সেই গোড়া অপসারণ না করে সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে সড়কের দুই পাশে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত ,যা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই গর্তগুলো রাতের আঁধারে ও বৃষ্টির সময় আরও বিপদজনক হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনায় পথচারী ও বাইক আরোহীরা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির ঘাটতির কারণেই জনজীবনে বাড়ছে ঝুঁকি। জানা গেছে, দরপত্রে উল্লেখ থাকা গাছ কাটার শর্তে বলা ছিলÑগাছের গোড়া বা শিকড় মাটি থেকে উত্তোলন করা যাবে না। যদি তুলে ফেলতেই হয়, তবে সেই জায়গা মাটি দিয়ে ভরাট করে সুরক্ষিত রাখতে হবে। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেক জায়গায় গাছের গোড়া তুলে শুধু গর্ত রেখে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও গোড়াও ফেলে রাখা হয়েছে সড়কের ধারে। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, একাধিক জায়গায় গর্ত খোঁড়া অবস্থায় আছে। কোথাও কোথাও সেই গর্তে পানি জমেছে, যা শিশুসহ পথচারীদের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। লোহাগড়ার আনোয়ার হোসেন জানান, আমার ভাই কয়েক দিন আগে বাইকে করে আসার সময় একটি গর্তে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। হাত ভেঙে যায় তার। গর্তগুলো রাতে একেবারেই বোঝা যায় না।তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এগুলো তো স্পষ্ট অনিয়ম। অথচ কোনো দায়িত্বশীল কেউ এসে দেখে না। গাছ তো কাটলেন, কিন্তু সাধারন জনগণের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাবলেন না। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি শুধু ঠিকাদারদের নয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যর্থতা রয়েছে। সময়মতো তদারকি করলে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তারা অবিলম্বে গর্তগুলো মাটি দিয়ে পূরণ করে ঝুঁকিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক সড়ক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন,আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। যদি কেউ শর্ত লঙ্ঘন করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়