ভারতে রপ্তানির ওপর বিধি-নিষেধ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্কারোপ নানা কারণে বিশ্ববাণিজ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। এতে বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ারও আশঙ্কা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত শনিবার ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে তৈরি পোশাকসহ সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে পণ্য নিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় বেনাপোলে শতাধিক ট্রাক, বুড়িমারীতে ১৭টি ট্রাকসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরে বেশ কিছু ট্রাক আটকে যায়। জানা যায়, স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে ফল, ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক পণ্য, সুতা, সুতার উপজাত, আসবাব, তৈরি পোশাকসহ বেশ কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে ভারত সরকার। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে শুধু ভারতের নবসেবা ও কলকাতা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে দেশটির আমদানিকারকরা বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে পারবেন। রবিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে ভারতের বিধি-নিষেধের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কিছু জানেন না, তবে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিষয়টি জেনেছেন। এর ভিত্তিতে বিচার-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের কী করণীয়, তা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়ে গেছে। ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধের ধারাবাহিকতায় এটি হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘এর ধারাবাহিকতায় হয়নি। এর ফলে ভারতের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভৌগোলিক কারণে আমরা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। পরিস্থিতি বুঝতে দু-এক দিন লাগবে; এরপর করণীয় ঠিক করা হবে।’ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বরাবরই ভারত এগিয়ে। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশ ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১৫৭ কোটি ডলারের। তবে ভারতের নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানির এই পরিমাণও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের অনেক পণ্য যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, মৌলভীবাজার, সিলেট সীমান্ত হয়ে। স্বল্প দূরত্বের সুবিধা কাজে লাগাতে বাংলাদেশের বড় কয়েকটি কম্পানি সীমান্তের কাছাকাছি কারখানা গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পণ্য ভারতে রপ্তানি করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। তাদের কারখানা থেকে এক দিনেই পণ্য চলে যেত সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন শহরে। এখন কলকাতা বন্দর দিয়ে সেই পণ্য পাঠাতে কমপক্ষে ১০ দিন লেগে যাবে বলে কম্পানির কর্মকর্তারা জানান। খরচও পড়বে অনেক বেশি। বাণিজ্য উপদেষ্টা যথার্থই বলেছেন, ভৌগোলিক কারণে দুটি দেশ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। তাই দুই দেশের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অচলাবস্থা কাম্য নয়। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়