নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরতলী খোলাডাঙ্গায় ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে শিশু কন্যার মৃত্যু ও তার ভাই গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় বোমাবাজ সন্ত্রাসী মোঃ দেলোয়ার হোসেন দেলু পুলিশের জালে গ্রেফতার হয়েছেন। বহুল আলোচিত ও বহু মামলার এই পলাতক আসামিকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ গ্রেফতার করায় এলাকায় স্বস্তিভাব ফিরেছে। মঙ্গলবার রাতে খোলাডাঙ্গা তিনবস্তা মোড় এলাকা থেকে মোবাইল ডিউটিরত পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে খুন ও পুলিশের ওপর হামলাসহ অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে। কুখ্যাত এই সন্ত্রাসী ওই গ্রামের মোঃ আব্দুল মালেকের ছেলে। বুধবার (২৫ জুন) পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করেছে। পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে আটক দেলোয়ার একজন পেশাদার মাস্তান, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং বোমাবাজ অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ২০১১ সাল থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য, অস্ত্র, খুন ও গুরুতর দণ্ডযোগ্য অপরাধে অন্তত ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে-হত্যা মামলা, বোমা বিস্ফোরণ, অস্ত্র আইনের অধীনে একাধিক অভিযোগ। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খোলাডাঙ্গা এলাকায় এক ভাড়াটে পরিবারের শিশু—৬ বছরের সজিব ও ৫ বছরের খাদিজা—তাদের বাসার পাশে খেলছিল। খেলতে খেলতে কলাগাছের নিচে লাল রঙের একটি গোল বল দেখতে পায় তারা। শিশু দুজন সেটিকে খেলনার বল ভেবে ঘরে নিয়ে আসে এবং খেলতে গিয়ে হঠাৎ তা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে দেখতে পান শিশু দু’জন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। পথিমধ্যে শিশুটি নড়াচড়া বন্ধ করলে আবার যশোর হাসপাতালে ফিরে আনা হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক খাদিজাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সজিব বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারকৃত আসামি দেলোয়ার হোসেন বাদীর স্বামীর ঘনিষ্ঠ পরিচিত হওয়ায় নিয়মিত তাদের বাসায় যাতায়াত করত। সেই সুযোগে ওই বসতবাড়ির পাশেই বোমাটি লুকিয়ে রাখে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। দেলোয়ারের দেওয়া তথ্যে বিস্ফোরিত বোমার উৎস ও তার সহযোগীদের নাম-ঠিকানা শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, আসামি জামিনে মুক্তি পেলে তার সহযোগী পলাতকদের সতর্ক করে দিতে পারে এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এজন্য তার বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক মামলায় পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করেছে। বিস্ফোরণ, হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশ বলছে, দেলোয়ারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বোমা সরবরাহ চক্র এবং ভবিষ্যতে হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে সমাজে গভীর নিরাপত্তা ঝুঁকি ও শিশুদের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত মিলছে।

