সুন্দর সাহা
যশোরের নওয়াপাড়ায় বুক সমান গর্ত খুঁড়ে ব্যবসায়ীকে পুতে রেখে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায় মামলায় অপরাধী চক্রের ক্যাডার মিঠুকে পুলিশ আটক করলেও প্রধান দুই হোতা কুখ্যাত আসাদুজ্জামান জনি ও চিটার মফিজুর রহমান রয়েছে অধরা। সংঘবদ্ধ চক্রের এই দুই অপরাধী আটকে পুলিশের গড়িমসির কারণে ভুক্তভোগীর পরিবারসহ এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর নওয়াপাড়া বাজারে মেসার্স জাফ্রিদি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। সেখানে ব্যবসা করাকালিন প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান জনি তার সহকর্মী সৈকত হোসেন হিরাকে দিয়ে ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে ধরে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এরপর টিপুর স্ত্রী সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে বিএনপির বহিস্কৃত নেতা আসাদুজ্জামান জনির নিজ প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে ২ কোটি টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (জঞএঝ) করেন। টাকা পেয়ে ওইদিন ব্যবসায়ী টিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও জানা যায়, এরপর গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে ব্যবসায়ী টিপু গ্রামের বাড়ি চলিশিয়া থেকে মোটরসাইকেল যোগে নওয়াপাড়া বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গেট পার হলে জনির আরেক ক্যাডার সৈকত হোসেন হিরা টিপুর গতিরোধ করে। এরপর বিকেল পর্যন্ত টিপুর মুঠোফোনটা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার স্ত্রী আসমা বেগম জানতে পারেন টিপুকে কামরুজ্জামান মজুমদারের মালিকানাধীন কনা ইকো পার্কে নিয়ে যায় আসাদুজ্জামান জনি গং। এরপর টিপুর স্ত্রী সেখানে গেলে আসাদুজ্জামান জনি, সম্রাট হোসেন, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলোচিত মফিজুর রহমান আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে টিপুকে মারপিট করে। এরপর বুক পর্যন্ত গর্ত খুড়ে বালু চাপা দিয়ে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করে। এসময় ব্যবসায়ী টিপু বাধ্য হয়ে তার ম্যানেজারকে ফোন করে টাকা দিতে বলেন। এরপর ম্যানেজার সাংবাদিক চিটার মফিজুর রহমানের একাউন্টে পুবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লক্ষ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লক্ষ টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (জঞএঝ) করে। এসময় চাঁদাবাজ মফিজ আরও ১ কোটি টাকার চেক আদায় করে। পাশাপাশি জনির নামে ক্রয়কৃত ৩ টি ও জনির অপকর্মরে দোসর আওয়ামী লীগের দুর্ধর্ষ ক্যাডার দিলিপ সাহার নামে ক্রয়কৃত ৩টি ১০০ টাকার ফাঁকা স্টাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরপর কাউকে কিছু বললে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী টিপুর স্ত্রী আসমা বেগম অভয়নগর থানায় মামলা করেন। পুলিশ ওইদিন রাতেই এই চক্রের হোতা কুখ্যাত আসাদুজ্জামান জনি ও চিটার মফিজুর রহমানের দোসর আসামি কামরুজ্জামান মিঠুকে আটক করে। আটকের পরদিন আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এছাড়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত অভয়নগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান ওরফে চিটার মফিজকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে চাঁদাবাজি চক্রের প্রধান দুই হোতা কুখ্যাত আসাদুজ্জামান জনি ও চিটার মফিজুর রহমান গা ঢাকা দেয়। অদৃশ্য কারণে এদের আটকের ব্যাপারে পুলিশ রয়েছে অনেকটা নির্বিকার। পুলিশী নিস্ক্রিয়তায় চাঁদাবাজ চক্রের প্রধান দুই হোতা কুখ্যাত আসাদুজ্জামান জনি ও চিটার মফিজুর রহমান রয়েছে অধরা। কেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি তা নিয়ে অভয়নগর জুড়ে নানান প্রচার-সমালোচনা ডাল-পালা মেলছে। এদিকে আটক মিঠুকে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা অভয়নগর থানার এসআই সালাউদ্দিন খান আদালতে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার শুনানী শেষে বিচারক তাকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। একইদিনে এই মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান জনির পিতা কামরুজ্জামান মজুমদারকে আটকের পর আদালতৈর মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটক কামরুজ্জামান মিঠুকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালতে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুবাইদা রওশন আরা এই আদেশ দেন। এদিকে এই মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান জনির পিতা কনা ইকো পার্কের মালিক কামরুজ্জামান মজুমদারকে একইদিন আটকের পর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করে এই চক্রের হোতা কুখ্যাত চাঁদাবাজ আসাদুজ্জামান জনি ও চিটার মফিজুর রহমানসহ ঘটনায় জড়িতদের আটকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে ডিবি আন্তরিক হলে এই চক্রের হোতাদের আটক করা অসম্বব নয়। যেটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মামলায় ডিবি পুলিশ প্রমান করেছে
