১৯ বছর পর ঝাঁপা বাঁওড়ের ২১ জন প্রতিষ্ঠাতার সদস্যপদ বহাল

উত্তম চক্রবর্তী, রাজগঞ্জ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের ঝাঁপা বাঁওড়ের ২১জন প্রতিষ্ঠাতার সদস্যপদ বহাল রেখেছেন যশোর জেলা সমবায় কর্মকর্তা। সেই সাথে বাদ পড়লেন বর্তমান বাঁওড় পরিচালনা কমিটির সহ নিয়োগকৃত ২৮ জন বহিরাগত সদস্য। ফলে মণিরামপুর উপজেলার বৃহত্তর এ ঝাঁপা বাঁওড়টি আবারও পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন মোবারকপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাস্টার আব্দুর রশীদ মুকুল। সূত্রে জানা যায়- ১৪৩০ সাল ১৪৩৫ সাল পর্যন্ত ও যশোরের মোবারকপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি বছরে ৪১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ভ্যাট আইটিসহ চুক্তিতে সর্বমোট ১ কোটি ২৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা বাৎসরিক চুক্তিতে সরকারের কাছ থেকে ৬বছর মেয়াদী ঝাঁপা বাঁওড়টি বন্দোবস্ত নেয়। ওই সমিতির সাবেক ২১ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে বাদ দিয়ে মোবারকপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি বন্দোবস্ত নিয়ে ২৮জন বহিরাগতদের নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই সমিতির সদস্যপদ বঞ্চিত ২১জন প্রকৃত মৎস্যজীবী সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার জন্য জেলা সমবায় সমিতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা সমবায় অফিস সরজমিনে তদন্তের জন্য উপজেলা সমবায় অফিসে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সমবায় অফিস কর্তৃক গঠিত ওই তদন্ত কমিটি সরজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায় এবং সমবায় সমিতির বিধিমালা ২০০৪ (সংশোধিত ২০২০) এর বিধি ৪৬ (১) (খ) লঙ্ঘন করায় বর্তমান কমিটির নিয়োগকৃত ২৮ জন বহিরাগত সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করেন। সদস্যপদ ফিরে পাওয়া সাবেক সভাপতি মাস্টার আব্দুর রশীদ মুকুল বলেন- ঝাঁপা বাঁওড়টি বিগত দিনে মোবারকপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির একটি প্রভাবশালী গ্রুপ প্রকৃত মৎস্যজীবী সদস্যদের নামে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানিসহ তাদের সদস্যপদ বাতিল করে দেন। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে বাঁওড়ের প্রকৃত মৎস্যজীবী সদস্যরা বাঁওড়ে মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। বর্তমানে সমিতির প্রতিষ্ঠাতা এসব সদস্য পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। আব্দুর রশীদ মুকুল আরও জানান- সম্প্রতি ওই সমিতির কিছু ব্যক্তি নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের বাদ দিয়ে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু লোকজন নতুন করে সদস্য করে বৃহত্তর এ ঝাঁপা বাঁওড়টি নিয়ন্ত্রণ করছে। সমিতির নিয়ম অনুয়ায়ী মোবারকপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি মোবারকপুর গ্রাম ছাড়া অন্য কোনো এলাকার কেউ সদস্য হতে পারবে না। সমিতির সভাপতি সুধাংশ বিশ্বাস জানান- তিনি এখনও চিঠি হাতে পাননি। চিঠি হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান। সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাধন বিশ্বাস জানান- জেলা সমবায় সমিতির চিঠি পেয়েছি। এখন মিটিং আহ্বান করা হয়েছে। সকল প্রকারের সিদ্ধান্ত ওই মিটিংয়ে নেওয়া হবে জানান বর্তমান এ সম্পাদক। এদিকে নির্বাহী পরিচালক মাস্টার আব্দুর রশীদ মুকুল সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিসকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

 

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়