১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে যশোরে মানববন্ধন ও সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকায় শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলার প্রতিবাদে সারা দেশের মতো যশোরেও কর্মবিরতি, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে যশোরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রেখে শিক্ষক-কর্মচারীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’-এর ব্যানারে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, আপনারা দেখেছেন ঢাকায় কীভাবে শিক্ষকদের রক্তাক্ত করা হয়েছে, হাতে হাতকড়া পরিয়ে টেনে-হিঁচড়ে নেওয়া হয়েছে। জাতির কারিগর শিক্ষকরা কোনো সন্ত্রাসী নয়, কোনো ঘুষখোর নয়, তবুও তাঁদের এভাবে অপমান-অপদস্থ করা হয়েছে। ন্যায্য দাবির জন্য কথা বললেই কি শিক্ষকদের রক্তাক্ত করতে হবে? বক্তারা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আশ্বাসের পরও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। এবার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শিক্ষকদের তিন দফা দাবি হলোঃ বাড়িভাড়া ৫০০ টাকা বৃদ্ধি নয়, মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে প্রদান করতে হবে; চিকিৎসা ভাতা দেড় হাজার টাকা করতে হবে; কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করতে হবে। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সায়েদা বানু শিল্পী, সোহেল রানা, আনারুল ইসলাম, এহসানুল হক, দয়ানন্দ হালদার, মহিবুল্লাহ হক, সাহেব আলী ও গোলাম মোস্তফা। এছাড়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ্যাড. আমিনুর রহমান হিরু, জুলাই আন্দোলনের নেতা ইমরান খান, শিক্ষক আলাউদ্দীন, সামাজিক আন্দোলনের নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, কবি জাহিদ আক্কাজ ও জুলাই আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক হাসিনুর রহমান এবং পরিচালনা করেন যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ খানজাহান আলী শান্ত। বক্তারা বলেন, “শিক্ষকদের প্রতি এ রকম নির্যাতন কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়