প্রতিদিনের ডেস্ক:
প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলায় নির্ধারিত তারিখে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আজহারুল ইসলামের আদালতে হাজিরা দেন আলোচিত মডেল মেঘনা আলম। মামলার শুনানিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা মেঘনার জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের ফরেনসিক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হন। এসময় আদালত প্রতিবেদনের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেন।একই সঙ্গে, মেঘনা আলমের পক্ষে করা জব্দ করা পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে আবেদনটি আদালত নামঞ্জুর করেন।শুনানিতে মেঘনার আইনজীবী মহিমা বাঁধন ও মহসিন রেজা পলাশ জানান, আন্তর্জাতিক লিডারশিপ ট্রেইনার হিসেবে পেশাগত কারণে তাকে প্রায়ই বিদেশে যেতে হয়। তাই তদন্তের প্রয়োজনে ডিভাইসগুলো জব্দ থাকলেও পাসপোর্ট ফেরত দিলে তার পেশাগত কার্যক্রম ব্যাহত হবে না।অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এই আবেদনের বিরোধিতা করে বলেন, মামলার তদন্ত এখনো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ গুরুতর হওয়ায় পাসপোর্ট ফেরত দিলে মেঘনা বিদেশে পালানোর চেষ্টা করতে পারেন, যা মামলার অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলবে।উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত পাসপোর্ট ফেরতের আবেদনটি খারিজ করে দেন।আগে আদালত তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, মেঘনা আলমের জব্দ করা মোবাইল, ম্যাকবুক ও ল্যাপটপে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তিকর বা রাষ্ট্রবিরোধী উপাদান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিল করতে।তবে নির্ধারিত দিনেও প্রতিবেদন না আসায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ না করে ফরেনসিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেন।সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরে আদালতের নিচে নামলে সাংবাদিকরা মেঘনা আলমকে ঘিরে ধরেন। তিনি ও তার আইনজীবীরা প্রায় ঘণ্টা সময় ধরে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এসময় আদালত প্রাঙ্গণে কর্মরত অনেক আইনজীবী, পুলিশ সদস্য এবং বিচার কাজে আসা সাধারণ লোকজনের মধ্যেও মেঘনাকে নিয়ে বেশ কৌতূহল দেখা যায়।অনেকে তার চারপাশে জড়ো হয়ে আদালতে আসার কারণ জানতে চান। কেউ কেউ মোবাইলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতেও দেখা যায়।আদালতের কার্যক্রম শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেঘনা আলম জানান, আজ এক ভক্তের দেওয়া শাড়ি পরে আদালতে এসেছেন। একজন ভক্ত এই শাড়িটা উপহার দিয়েছিলেন।

