১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

ভারতকে উড়িয়ে ডি কক বললেন ‘জয়ের ক্ষুধা ফিরে পেয়েছি’

প্রতিদিনের ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ওপেনার কুইন্টন ডি কক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পরই যেন নতুন রূপে হাজির। ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাত্র ৪৬ বলে ৯০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে প্রমাণ করলেন, তার ব্যাট এখনো আগের মতোই ধারালো, বরং আগের চেয়েও বেশি ক্ষুধার্ত। ৩২ বছর বয়সী ডি কক ২০২৩ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে থেকে বিদায় নেন এবং ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে ফাইনাল হারার পর আর সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটেও খেলেননি অক্টোবরে ফেরার আগ পর্যন্ত। এখন আবার সাদা বলে নিয়মিত খেলছেন তিনি, আর এই বিরতিটাই তাকে বুঝিয়েছে তিনি কী হারাচ্ছিলেন। ডি ককের ভাষায়, ‘অবসরের আগে আমি ম্যাচ জেতানোর ক্ষুধা হারাচ্ছিলাম। সেই বিরতির সময়টাতেই ক্ষুধাটা ফিরে এসেছে। ছেলেদের বলছিলাম, আগে কখনো এমন অনুভব করিনি।’ তিনি জানান, তরুণ বয়সে লক্ষ্য থাকত রান করা ও সবাইকে মুগ্ধ করা, কিন্তু এখন তার মধ্যে নতুন শক্তি, প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাওয়ার তাগিদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দিন-রাতের চাপে তিনি মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। ভারতকে বারবার একই সিরিজে মোকাবিলা করতে করতে বিরক্তিও জন্মেছিল। ডি কক বলেন, ‘যখন দূরে ছিলাম, তখনই বুঝেছি, আসলে এটাই আমি মিস করছিলাম। মানুষ সবসময় যা আছে তা হারালে তবেই তার মূল্য বুঝতে পারে। এখন ফিরে এসে মনে হচ্ছে আরো অনেকদিন খেলতে পারব।’ ফিরে আসার শক্তি পেয়েছেন, তাই কি টেস্ট ক্রিকেটেও প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আছে? ডি কক রসিকতার সুরে বললেন, ‘আপনি একা নন, অনেকেই প্রশ্ন করেছে… কিন্তু এখনই উত্তরটা সোজা ‘না’।’ তিনি জানান, অবসর ভাঙা ছিল ভেবেচিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত। দীর্ঘ বিরতিটাই তাকে মানসিক ও শারীরিক শক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে। ‘একদিন সকালে উঠে সিদ্ধান্ত নিইনি। বিরতির সময় যত বাড়ছিল, ততই মনে হচ্ছিল আবার প্রস্তুত হয়ে উঠছি। দশ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পর আমি সত্যিই ক্লান্ত ছিলাম। এখন ফিরে এসে অনেক এনার্জি অনুভব করছি।’ তার মতে, সাদা বলের ক্রিকেটে ফেরাটা কঠিন ছিল না, কারণ যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছিল। যদিও তিনি বুঝতে পারছেন, বিশ্ব ক্রিকেট দ্রুত বদলাচ্ছে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। ৫৪টি টেস্টে প্রায় ৫ হাজার রানের মালিক ডি কক মনে করেন, যারা দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়েন, সাধারণত তারা তিন ফরম্যাটেই খেলেছেন। ‘আমি আজও বিশ্বাস করি, দীর্ঘ ক্যারিয়ারের জন্য তিন ফরম্যাট খেলা জরুরি, অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও। কারণ এতে নিজের টেকনিক ও সামর্থ্য সম্পর্কে গভীর ধারণা জন্মায়।’ ডি কক বলেন, স্কুলজীবনে যেমন লক্ষ্য থাকে সেরা ক্রিকেটার হওয়া, তেমনি তিনি এখনো মনে করেন, এক-ফরম্যাট ক্রিকেটার হওয়া নয়, বরং তিন ফরম্যাটেই দক্ষতা অর্জনই প্রকৃত উন্নতির পথ। শেষ পর্যন্ত, ফিরে আসার আনন্দ আর নতুন উদ্যম নিয়েই ডি কক বললেন, ‘এখন মনে হচ্ছে ক্যারিয়ার আরো দীর্ঘায়িত করতে পারব। আগের মতো ক্লান্ত নই, বরং ফিট ও মানসিকভাবে সতেজ।’

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়