নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ ডিসেম্বর সোমবার কমরেড আবদুল হক-এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোর দড়াটানায় বিকাল সাড়ে ৩টায় স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত। বিদেশি শক্তির কাছে বন্দর ইজারা এবং মিয়ানমারে করিডর প্রদানসহ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সাথে বাংলাদেশকে যুক্ত করে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার। দেশকে সাম্রাজ্যবাদী এই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার বিরুদ্ধে তথা সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ এবং আমলা-দালালপুঁজি উচ্ছেদের লক্ষ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এর নেতৃবৃন্দ। কমরেড আবদুল হকের ৩০তম মৃত্যুবাার্ষিকী উপলক্ষে আজ ২২ ডিসেম্বর সোমবার মিরপুর বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে প্রয়াতের সমাধীতে পুষ্পার্পণ ও দেশব্যাপি স্মরণসভার আয়োজন করেছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে বিকাল সাড়ে ৩টায় দড়াটানা শহীদ চত্ত্বরে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান রাজেসের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টে কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ বিএম শামীমুল হক, কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সমীরণ বিশ্বাস, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির জেলা সভাপতি ফরিদা পারভীন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সদর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. আহাদ আলী লস্কর, যশোর জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কামাল পারভেজ বুলু, ফলিদুল ইসলাম ও মধুমঙ্গল বিশ্বাস প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কমরেড আবদুল হকের ৭৫ বছরের জীবনে পাঁচ দশকের অধিককাল জুড়ে বিপ্লবী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় ১৯৪৩ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৪৩ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেসের পূর্বে পার্টির যশোর জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। কমরেড আবদুল হক তে-ভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান, ১৯৫০ সালে ২৪ এপ্রিল রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে খাপড়া ওয়ার্ডের ঐতিহাসিক আন্দোলন, ১৯৫৬ সালে সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভ চক্রের বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, সংশোধনবাদী মাও চিন্তাধারার বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে কৃষিতে ধনবাদ প্রধান সংশোধনবাদী বক্তব্যের বিরুদ্ধে পূর্ববাংলা আধা উপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী বক্তব্য উপস্থাপন, ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে ত্রিবিশ্ব তত্ত্ব নামে এক সংশোধনবাদী সুবিধাবাদী তত্ত্ব প্রচার হলে এই তত্ত্বকে সংশোধনবাদী সুবিধাবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করাসহ মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে পার্টির তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে বিপ্লবী পার্টি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন।

