১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বাগেরহাট পৌরবাসীর পানি সংকট চরমে

কামরুজ্জামান মুকুল, বাগেরহাট
বাগেরহাট পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট মেটাতে ১৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, সঞ্চালন লাইন, ওভারহেড ট্যাংকি কোন কাজে আসছে না পৌরবাসীর। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় মূল্যবান সব যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চুরিও হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরকারি টাকার সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রকল্পটি সচল করার দাবি সচেতন মহলের। আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক মোটর, আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বলিত ভবন। পাশেই বিশালাকৃতির ওয়াটার ওভারহেড ট্যাংকি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাগেরহাট পৌরসভার পানি সরবরাহ, এনভারমেন্টাল স্যানিটেশন উন্নতিকরণ প্রকল্পের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবিএম ওয়াটার কোম্পানি লিঃ ও মেসার্স এমটিএন্ডএসএস কনসোর্টিয়াম ২০২০-২১ অর্থ বছরে শহরের জন্য নূর মসজিদ এলাকায় নির্মাণ করেন এসব স্থাপনা। এই প্লান্ট সচল রাখতে ভৈরব নদী থেকে পাইপ লাইনে পানি নেওয়া হত, শহরের পচাঁদীঘিতে সেখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি আসত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পানি বিশুদ্ধ হওয়ার পর ওভারহেড ট্যাংকি থেকে সরবরাহ করা হত পৌরবাসীকে।
এই প্রক্রিয়ার জন্য ভৈরব নদীতে পন্টুন, পন্টুন থেকে পচাঁদীঘি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার পাইপলাইন, পাম্প হাউস নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনির ট্রেডার্স। কিন্তু ২০২১ সালের জুনে কাজ সমাপ্তির পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে প্লান্টটি পরিচালনা করে পানি সরবরাহ করে শহরবাসীকে। পরে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল। পৌরসভা মাস খানেক চালিয়ে ভাল পানি না পাওয়ায় প্লান্টটি বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ আছে প্লান্টটি। ইতোমধ্যে প্লান্টের রিজার্ভারের ঢাকনা, মোটর ও ফ্যান চুরি হয়েছে। সেই সাথে পন্টুন, প্লান্ট, পাম্প হাউসের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া শুরু করেছে। পাম্প অপারেটর মতিয়ার রহমান মল্লিক জানান, পচাঁদীঘির মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হত এবং পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় তৎকালীন মেয়রের নির্দেশে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান জানান, “জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন পচাঁদীঘিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করায় ওই পানি বিশুদ্ধকরণ সম্ভব নয়। আর জনবলেরও সংকট রয়েছে, যার ফলে প্লান্টটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।” জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক জানান, পৌর মেয়রের চাহিদা ও পানির উৎস প্রদান সাপেক্ষে প্রকল্প নেওয়া হয়। সেই হিসেবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষামূলক সময় শেষে পৌর কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ শেষে প্রকল্প হস্তান্তর করা হয়েছিল। পানির উৎসের বিষয়ে জানান, পৌর কর্তৃপক্ষ তাদেরকে নিশ্চিত করেছিলেন পচাঁদীঘি তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। পানির সংকট মেটাতে এত টাকা ব্যয়ের পরেও সারা বছর চরম পানি সংকটে ভোগেন পৌরবাসী। প্রতিদিন লাইনে দাড়িয়ে পানি নিতে হয় তাদের। কখনও একদিন পরে আবার কখনও ৩দিন পরে পানি পান তারা। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীন পরিকল্পনা ডিসিপ্লিন এর বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আশিকুর রহমান জানান, “পৌরসভার সক্ষমতা যাচাই ও বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার ব্যাপ্তিকাল নির্ধারণের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটি মুখথুবরে পড়েছে। ভবিষ্যতে কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা যাচাই করে প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রতিদিন ২ লাখ লিটার পানি শোধন ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬ লাখ ৮০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ওভারহেড ট্যাংকি ও ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পানি সরবরাহের জন্য ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ট্রান্সমিশন লাইন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়