উৎপল মণ্ডল, শ্যামনগর
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চুনা নদীর উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে পাইপ স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। ২৭ ডিসেম্বর(শনিবার) রাতের আঁধারের উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পানখালী গ্রামের চুনা নদীর বেড়িবাঁধের রাস্তা কেটে অবৈধ নাইনটি পাইপ বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র গোপনে এই কাজ করে নদী ও বেড়িবাঁধের মারাত্মক ক্ষতি করছে। মাস কয়েক আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন অবৈধ নাইনটি পাইপ ও গেট অপসরণ করতে আসলে তারা বাধার মুখে পড়ে কয়েক দিন কাজ বন্ধ রাখে। কাজ বন্ধ থাকার কয়েক দিন পারে তারা অবৈধ নাইনটি পাইপ ও গেট অপসরণ করেন কিন্তু শনিবার রাতে আবার সেই পাইপ আবার বসানো হয়েছে।জানা গেছে, উপজেলার চুনা নদীসংলগ্ন বেড়িবাঁধের একটি অংশে গভীর রাতে কেটে বড় আকারের পাইপ বসানো হয়। এসব পাইপের মাধ্যমে নদীর পানি অবৈধভাবে প্রবাহিত করা হচ্ছে, যা বেড়িবাঁধের স্থায়িত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। বেড়িবাঁধটি এই এলাকার কৃষিজমি ও বসতবাড়ি রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এভাবে বাঁধ কেটে পাইপ বসানো হলে যে কোনো সময় ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জোয়ারের সময় পানি প্রবাহ বেড়ে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট চক্রটি দ্রুত পাইপ ঢেকে রাখার চেষ্টা করে এবং দিনের বেলায় কোনো চিহ্ন না রাখার কৌশল নেয়। এতে করে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তারা বারবার একই কাজ করে যাচ্ছে। শ্যামনগর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বেড়িবাঁধ কেটে পাইপ বসানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ বেআইনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করা হবে। খবর পেয়ে রাত ১টার সময় পুলিশ নিয়ে ঘটনা চলে গেলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার সাথে কারা জড়িত তাদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে শনিবার রাতে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তিনি জানান, শনিবার রাতে চুনা নদীর বেড়িবাঁধে পাইপ বসানোর স্থানে পুলিশ উপস্থিত হলেও সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তিনি আরও বলেন, যেকোনো মুহূর্তে এ বিষয়ে পুনরায় অভিযান চালানো হবে।

