কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশ ইন করা ১৪ ভারতীয় নাগরিককে আবারও ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চল্লিশপাড়া বিওপি এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তের মেইন পিলার ১৫৭-এর নিকট কোনো ধরনের পতাকা বৈঠক ছাড়াই তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়। বিজিবির তত্ত্বাবধানে সীমান্তের জিরো লাইন থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ওই নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায় বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে বিএসএফ ওই ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে পতাকা বৈঠকে প্রমাণিত হয় তারা ভারতীয় নাগরিক এবং সেদিনই বিএসএফ তাদের ফেরত নিয়ে যায়। তবে একই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা নীমতলা সীমান্ত দিয়ে রাতের আঁধারে আবারও ওই পরিবারটিকে বাংলাদেশে পুশ ইন করে বিএসএফ। স্থানীয়দের ভাষ্য, তারা সবাই হিন্দিভাষী এবং একই পরিবারের সদস্য। ভুক্তভোগীরা জানান, তারা সবাই মুসলিম এবং ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের বাসিন্দা। সেখানে তাদের স্থায়ী বসতভিটা রয়েছে। ভারতীয় পুলিশ তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে কারাগারে পাঠায় এবং আধার কার্ড ও রেশন কার্ড জব্দ করে। প্রায় ১ মাস ৫ দিন কারাভোগের পর তাদের কলকাতায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নদীয়া জেলার গেঁদে সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের গেট খুলে মধ্যরাতে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন করা হয়। এরপর দর্শনা বিজিবি কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির কাছে ওই ১৪ জন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে। ৪৭ বিজিবির তত্ত্বাবধানে শেষ পর্যন্ত ওই ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে রবিবার পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল বলেন, গত ২৫ ডিসেম্বর ভারতীয় নাগরিকদের পুশ ইনের চেষ্টা করলে বিজিবি তা প্রতিহত করে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে বিএসএফ রাতের আঁধারে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে পুনরায় পুশ ইন করে। বর্তমানে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আবারও ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

