দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন। একটি জীবন থেকে এক যুগেরও বেশি সময় হারিয়ে যাওয়া কম কথা নয়। অবশেষে সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমির টানে দেশের মাটিতে পা রেখেছেন তারেক রহমান। তাঁর এই ফিরে আসা কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি ছিল অগণিত কর্মী-সমর্থকের এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান।এটি ছিল অসুস্থ মায়ের শয্যাপাশে ও বাবার সমাধির সান্নিধ্যে ফেরার আকুলতা এবং নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির এক নবদিগন্তের সূচনা।প্রকাশিত ‘নতুন গতিধারায় রাজনীতি’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে তাঁর প্রত্যাবর্তন রাজনীতিতে এনেছে বদলের বার্তা, আর ‘১৯ বছর পর বাবার সমাধিতে অশ্রুসিক্ত পুত্রের শ্রদ্ধা’ তুলে ধরেছে সেই মানবিক কোমলতা, যা রাজনীতির কঠোর কাঠামোকে মাঝে মাঝে ভেঙে মানবিক করে দেয়। মাতৃভূমির মাটি, মানুষের ভালোবাসা, ব্যক্তিগত আবেগ—সবকিছু যেন তাঁকে ঘিরে তৈরি করেছে নতুন একটি জাতীয় আবহ।গত বৃহস্পতিবার যখন তিনি রাজধানীর রাজপথে নামলেন, তখন প্রকৃতি যেন এক রাজসিক সংবর্ধনার আয়োজন করেছিল।লাখো মানুষের সেই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দিয়েছে, নির্বাসিত জীবন তাঁকে জনবিচ্ছিন্ন করতে পারেনি, বরং মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান আরো পাকাপোক্ত করেছে। কিন্তু এই রাজসিক সংবর্ধনার চেয়েও বেশি হৃদয়স্পর্শী ছিল পরের দিনের এক দৃশ্য। দীর্ঘ ১৯ বছর চার মাস পর তিনি দাঁড়িয়েছেন তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে। মোনাজাতের সময় তাঁর চোখের জল যখন গড়িয়ে পড়ছিল, তখন সেখানে কোনো দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতাকে নয়, বরং পিতৃহারা এক সন্তানকে দেখল দেশবাসী।
এই অশ্রু শুধু ব্যক্তিগত ভালোবাসার প্রকাশ নয়, এটি এক যন্ত্রণামথিত সময়ের সাক্ষ্য, এক নেতার নীরব প্রতিজ্ঞা। সেই অশ্রু ছিল দীর্ঘ প্রবাসজীবনের কষ্ট, পাওয়া আর না পাওয়ার বেদনা, ভাইকে হারানোর হাহাকার এবং স্বদেশের মাটির ঘ্রাণ নেওয়ার এক তৃপ্তি।তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন এক অনিশ্চয়তার সময়, যখন নির্বাচন নিয়ে সংশয়, রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও নেতৃত্বশূন্যতার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাঁর বক্তব্যে এক পরিণত ও রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বের ছাপ খুঁজে পাচ্ছেন।
তাঁর ভাষায় ছিল না কোনো প্রতিশোধের আগুন, বরং ছিল জাতীয় ঐক্যের ডাক। ধর্ম-বর্ণ, পাহাড়ি-সমতলের বিভেদ ভুলে একটি বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার যে রূপরেখা তিনি দিয়েছেন, তা তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। এমনকি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোও যখন তাঁকে স্বাগত জানায়, তখন বোঝা যায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘস্থায়ী গুমটভাবের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
রাজনীতি শুধু কৌশল নয়, এটি মানুষের গল্প—দুঃখ, প্রত্যাশা, হারিয়ে ফেলা সময় ও পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষার গল্প। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন সেই গল্পেরই নতুন অধ্যায়। সংঘাতের রাজনীতির বদলে ঐক্যের রাজনীতি, প্রতিশোধের বদলে পুনর্গঠনের স্বপ্ন তিনি সামনে রেখেছেন। মানুষের আবেগ, মানুষের ভালোবাসা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি এখন ইতিহাসের সামনে তাঁর বড় পরীক্ষা।

