১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

নির্বাচন দোরগোড়ায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একেবারেই দোরগোড়ায়। রিটার্নিং অফিসারদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীসহ অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। অনেকে আপিল করেছেন।কেউ কেউ মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহী প্রার্থী দেখা গেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ দলে (বিএনপি)। বিদ্রোহী প্রার্থীরাই বেশি বাদ পড়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া এসব প্রার্থী নিজ নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরসংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন।
আবার যাঁরা দলের মনোনয়ন না পেয়েও দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাঁরা বাদ পড়ছেন দলের মনোনয়ন দেখাতে না পারায়। নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে কিছু প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।অনেক প্রার্থী, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের অনেক প্রার্থী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেওয়া গণহারে মামলা থেকে মুক্ত হতে না পারার কারণে সমস্যাগ্রস্ত হচ্ছেন। আদালতের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে।অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অনেক মামলা প্রত্যাহার বা আসামিদের খালাস দেওয়া হলেও অনেক প্রার্থীর নামে এখনো কিছু মামলা বিচারাধীন। জানা যায়, আসন্ন নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপির ১৭ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৩২টি মামলা বিচারাধীন। অন্যদিকে ১৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা। এর মধ্যে জামায়াতের ছয়জনের বিরুদ্ধে ২২টি মামলা বিচারাধীন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান গত শনিবার বিকেলে বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমাদের নেতাদের বিরুদ্ধে গায়েবি ও প্রতিহিংসামূলকভাবে করা সব মামলা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। এখনো মামলাগুলো টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে। নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হলেও সেই মামলাগুলোর কারণে আদালতে যেতে হচ্ছে।’নির্বাচন যত নিকটবর্তী হচ্ছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তত খারাপের দিকেই যাচ্ছে। গতকাল রবিবার কক্সবাজার-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপি সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীকে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি ও কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আলমগীর হোসেন (৫৫) নামের একজন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত আলমগীর হোসেন ছিলেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। দুর্বৃত্তরা তাঁর মাথায় গুলি করে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। অন্যদিকে নাটোরের লালপুরে পদ্মার চরে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত সোহেল রানাকে (৩৭) গুলি চালিয়ে হত্যা করে। এ সময় তাঁর স্ত্রীও আহত হন। খুলনায় গত শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ফারুক হোসেন (৪২) নামের এক ব্যক্তি। তাঁকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়া, সীমান্ত দিয়ে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান হয়ে আসাসহ নানা কারণে এ বছর নির্বাচনকালীন ঝুঁকি অনেক বেশি। অন্যদিকে কারাগারে থাকা অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে বেরিয়ে এসে নতুন করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শুরু করেছে। ফলে পরিস্থিতির আরো বেশি অবনতি হচ্ছে।
আমরা আশা করি, যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দ্রুত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হবে। গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে অনেক বেশি তৎপর করতে হবে। আমরা চাই, আসন্ন নির্বাচন হোক বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়