১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র মাসখানেক। সাধারণত এ সময় দেশব্যাপী একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। এবার সেই পরিবেশে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্ক কাজ করছে। আর তার প্রধান কারণ হচ্ছে, দেশের অবনতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। যেমন বাড়ছে খুন, সন্ত্রাস, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা; তেমনি বাড়ছে রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড। ফলে মানুষের মধ্যে রাজনীতি ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার স্বতঃস্ফূর্ততা কমে গেছে। তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালজুড়েই হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি, দস্যুতা, মব সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটনের হার অনেক বেশি ছিল। এই এক বছরে শুধু রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩৩ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাত হাজার ৫১১ জন। গত বছর দেশে প্রায় পৌনে চার হাজার হত্যাসংক্রান্ত মামলা করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর ও মানবাধিকার সংস্থা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গত এক বছরে মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে ১৬৮ জন নিহত এবং আহত হয়েছে ২৪৮ জন। হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫৩৯ জন সাংবাদিক। মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজ বলছে, অপরাধ দমন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরো হুমকির মুখে পড়বে। সার্বিক তথ্য-উপাত্ত বলছে, রাজধানীর পাশাপাশি শহর, বন্দর, গ্রামে অপরাধমূলক ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে গুলি করে হত্যার ঘটনা বাড়তি আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। বেশির ভাগ অপরাধমূলক ঘটনায় হামলাকারীরা গ্রেপ্তার হয়নি। সর্বশেষ গত সোমবার যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় দুর্বৃত্তরা রানা প্রতাপ বৈরাগী নামের এক ব্যবসায়ীকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। একই দিন বাজার থেকে হেঁটে বাড়ি যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের রাউজানে জানে আলম সিকদার নামের সাবেক এক যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাতে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় শরৎ চক্রবর্তী মনি (৪০) নামের এক মুদি দোকানিকে বাড়ির সামনে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার রাতে নরসিংদীর মাধবদী থানার পাইকারচর ইউনিয়নে রমজান আলী নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। প্রধান মহাসড়কগুলোতেই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ডাকাতির ঘটনা। প্রায় প্রতিদিন একাধিক ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটছে। এসব ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনার ভিডিও প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় রাতের দূরপাল্লার যাত্রায় আতঙ্ক বাড়ছে। ভয়ে আছেন রাজনীতিবিদসহ নির্বাচনের প্রার্থী, সমর্থক এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও। এর আগে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিহত হয়েছেন, একজন আহত হয়েছেন। সম্প্রতি একজন প্রার্থীকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছে যে অনেকেই প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, গানম্যান চেয়েছেন অথবা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়েছেন। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়, বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে। আমরা আশা করি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসন সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়