নিজস্ব প্রতিবেদক
তেভাগা আন্দোলনের প্রবাদপুরুষ ও উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ কমরেড অমল সেনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) যশোরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। শুভেচ্ছা ও স্মরণ অনুষ্ঠান শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দুপুর ১২টায় শুরু হয়। পরে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে যশোরের বাকড়ীতে অবস্থিত কমরেড অমল সেনের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটির সভাপতি কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড বিপুল বিশ্বাস। বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ, জাতীয় কৃষক খেতমজুর সমিতি, নারী মুক্তি পরিষদ, বিপ্লবী যুব মৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীসহ বিভিন্ন সংগঠন এবং যশোর, নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার নেতৃবৃন্দ, উপজেলা কমিটির প্রতিনিধি ও স্থানীয় শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাতীয় সংগীত এবং কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। সভায় কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ কমরেড অমল সেনের তেভাগা আন্দোলনে অবদান, মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগঠক হিসাবে ভূমিকা এবং আজীবন শ্রেণিসংগ্রামের প্রতি তাঁর অটল রাজনৈতিক অবস্থান স্মরণ করেন। বক্তারা তার আদর্শ অনুসরণে আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানান। আলোচনা সভার সমাপ্তিতে তেভাগা আন্দোলন ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয় তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রসিক লাল ঘোষ, নিরোদ বিহারী লস্কর, বীরেন বৈরাগী এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য নারায়ণ চন্দ্র পাঠককে। একই দিনে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা যশোর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দও কমরেড অমল সেনের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন কমরেড খবির শিকদার এবং উপস্থিত ছিলেন সুমাইয়া শিকদার ইলা, সুরাইয়া শিকদার এশা, আরিফা আক্তার, রায়হান রশিদ আবির, নয়ন আহমেদসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

