২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

সাতক্ষীরায় নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

আব্দুল আলিম, সাতক্ষীরা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষর মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ বিষয়ক সাংবাদিকবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মুহাঃ আরেফিন জুয়েল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শাহনাজ পারভীন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি জি.এম মনিরুল ইসলাম মিনি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগের কোন নির্বাচনের মত নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ন নির্বাচন। নির্বাচনে কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবার অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই- আগষ্টে সংঘটিত ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জুলাই সনদ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। আর রাষ্ট্র সংষ্কারের জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের আয়োজন। সাধারণ জনগনের কাছে এই বার্তাটি পৌছে দিতে চাই। এইভাবে সরকার তার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। আমরা শুধু বলবো জনগণকে যে, আপনারা গণভোটে অংশগ্রহণ করুন। গণভোটের ব্যাপারে আমাদের যে প্রচার-প্রচারণা সেটা চলছে। তিনি আরো বলেন, পৃথিবী প্ররিবর্তনশীল। রাষ্ট্র ব্যবস্থা সবসময় পরিবর্তনশীল। মানুষই পরিবর্তন করেছে তার নিজের প্রয়োজনে। এজন্য বলা হচ্ছে দেশের চাবি আপনার হাতে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে আপনি পরিবর্তনের পক্ষে থাকবেন। সভায় বলা হয়, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত কার্ডধারী সাংবাদিকরা দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে কেবল ভোট কক্ষে ঢুকতে পারবেন। কিন্তু গোপন কক্ষে ঢুকতে পারবেন না। তবে ১০ মিনিটের বেশি থাকা যাবে না। এক সাথে দুইজনের বেশি সাংবাদিক ভোট কেন্দ্রে যাওয়া যাবে না। ভোট গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয় এমন কোন কাজ থেকে সাংবাদিকদের বিরত থাকতে হবে। কেন্দ্রে ভোটারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না। লাইভ করা যাবে না, দায়িত্বরত কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে ভোট কেন্দ্রের ছবি নেওয়া যাবে। কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষ অবলম্বন করা যাবে না। এছাড়া ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডং কর্মকর্তা বা দায়িত্বে থাকা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর বক্তব্য নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে জেলা পর্যায় জেলা প্রশাসক ও উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া যাবে। অন্য কেউ বক্তব্য দিতে চাইলে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে। তবে কেন্দ্রে যদি কঠিন কোন প্ররিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে বক্তব্য দিতে পারবে। সভায় আরো বলা হয়, আগামী ২৮ জানুয়ারি হতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগ এর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম নিয়োগ বিধি অনুসরণপূর্বক মেধার ভিত্তিতে সম্পূর্ন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সাথে সম্পন্ন করা হয়। এমতাবস্থায় প্রতারক চক্রের দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে কোন প্রকার অর্থ লেনদেন না করার জন্য সংশ্লিষ্ঠ সকলকে অনুরোধ করা হয়। এধরনের প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় নির্বাচনে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষন কার্ড ও দায়িত্ব এবং কর্তব্য সর্ম্পকিত বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করনে জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম টুটুল। সভায় সাতক্ষীরায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়