বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, এই খবরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাদের প্রত্যাশা, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে উষ্ণতা ফিরবে, ভিসা জটিলতা কমবে এবং দুই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াত আবারও চাঙা হবে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। ফলে পদ্মাপারের মতো কলকাতার ব্যবসায়ী মহলেও তৈরি হয়েছে প্রত্যাশার আবহ। ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসায় ঢাকা-কলকাতার সম্পর্কের যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে যাবে। আগের মতো যাতায়াত বাড়লে ব্যবসা-বাণিজ্যও গতি পাবে। কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন মার্কুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী খান বলেন, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে বলেই তাদের ধারণা। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া বড় কোনো সহিংসতার খবর শোনা যায়নি। ফল ঘোষণার পর তারেক রহমানের বক্তব্য ও আচরণে তিনি ইতিবাচক বার্তা দেখছেন। তার বিশ্বাস, এতে ভারত-বাংলাদেশের পুরোনো সম্পর্ক আবারও জোরদার হবে। তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পক্ষ থেকে যে শোকবার্তা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছিল, তাতেই দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত মিলেছিল। নতুন সরকার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগোলে তা দুই দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে। মার্কুইস স্ট্রিটে অবস্থিত আর এন টেগোর হাসপাতালের একটি আউটলেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাফর খান বলেন, তাদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে আরও এগোবে এবং দুই দেশের সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় আবার ফিরে আসবে। নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী পিন্টু ঘোষ জানান, গত দেড় বছর তারা অপেক্ষায় ছিলেন একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য। এখন সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তার মতে, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে যাতায়াত বাড়বে এবং উভয়পারের ব্যবসা আবারও সচল হবে। শ্যামলী পরিবহনের কলকাতা কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মনোরঞ্জন রায় বলেন, একসময় মার্কুইস স্ট্রিট এলাকায় চলাচলকারী মানুষের বড় অংশই ছিলেন বাংলাদেশি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় গত দেড় বছরে ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। নতুন সরকার আসায় তিনি আশা করছেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে। একই ধরনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও। ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মিল্টন যিনি বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন, তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবং বড় ধরনের সহিংসতার খবর নেই। তিনি মনে করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক আরও জোরদার হবে। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা এক প্রবীণ বাংলাদেশি নাগরিক বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকার এসেছে। তারা চান সরকার দেশকে স্থিতিশীলভাবে পরিচালনা করুক এবং ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখুক। বিশেষ করে চিকিৎসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত ভিসা জটিলতা দ্রুত কমানো হোক, এটাই তাদের প্রত্যাশা। মনিপাল হাসপাতালে সন্তানের চিকিৎসার জন্য আসা আরেক অভিভাবক বলেন, অতীতের টানাপোড়েন ভুলে নতুন সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। প্রয়োজনে যেন সহজে কলকাতায় আসা-যাওয়া করা যায়, সেটিই তাদের প্রধান চাওয়া। ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় দুই বাংলার মানুষের মিল বহু পুরোনো। কলকাতা বরাবরই বাংলাদেশি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। ফলে নতুন সরকারকে ঘিরে দুই পাড়েই তৈরি হয়েছে প্রত্যাশার আবহ। ফাল্গুনের শুরুতে অনেকের কণ্ঠেই শোনা যাচ্ছে একটাই কথা, সম্পর্কের বসন্ত যেন আবার ফিরে আসে।

