৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

বেনাপোল পৌরসভার সামনের সড়কটি দীর্ঘ দিন যাবৎ সংস্কার বিমুখ হলেও দেখার কেউ নাই

সৈকত হোসেন
বন্দরনগরী বেনাপোলের অত্যন্ত গুরুত্ববহ পৌরভবনে যাতাযাতের সড়কটি দীর্ঘ দিন যাবত ধরে সংস্কার বিমুখ হয়ে পড়ে থাকলেও দেখার কেউ নেই। এলাকাবাসীর শত অভিযোগের মুখেও রাস্তাটি এখনো মানসন্মত ভাবে সংস্কার করা হয়নি। সম্প্রতি বেনাপোল পৌর কর্তৃপক্ষ সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করলেও অজানা কারনে তা বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে এলাকাবাসী। বর্তমানে সড়কটি খানাখন্দে পরিনত হয়ে পথচারীদের চলাচলের জন্য ঝুঁকিতে পরিনত হয়েছে। বেনাপোল পৌরসভা হতে রাস্তাটি মেরামতের জন্য রিকোয়ারমেন্ট পাঠানো হলেও তার অগ্রগতি সম্পর্কে ওকেবহাল নয় পৌর কর্তৃপক্ষ। ২০০৬ সালে বেনাপোল পৌরসভা গঠিত হয়। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই পৌরসভা। ২০১১ সালের ২০ সেপ্টম্বর ‘ক’ শ্রেণীতে স্থান পায়। অথচ দীর্ঘ ১ যুগেরও বেশি সময় পার হলেও সংস্কার হয়নি বেনাপোল পৌরসভার যাতাযাতের প্রধান সড়কটি। সংস্কারের অভাবে পড়ে থাকা বেহাল এ সড়ক দীর্ঘ বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে কিন্তু মেরামতের কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না পৌর কতৃপক্ষ। বেনাপোল বাহাদুরপুর রোডের মোড় হইতে বেনাপোল কলেজ পর্যন্ত চলাচলের অনুপযোগী সড়কটিতে যেন কারও চোঁখ পড়ছে না। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৯টি ওয়ার্ড থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। অসহায়ের মত দীর্ঘ ১ যুগেরও বেশি সময় ধরে এই সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীর। অথচ এই পৌরভবন সড়কে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেসরকারী স্থাপনা সড়কের শুরুতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী হরিদাস ঠাকুরের পাঠবাড়ী আশ্রম, বেনাপোল পৌরভবন, বেনাপোল মহিলা আলিম মাদ্রাসা, শিশু একাডেমি প্রি-ক্যাডেট স্কুল, বেনাপোল কলেজ, বেনাপোল পোড়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি এনজিও অফিস। এছাড়াও এটি বেনাপোল বাহাদুপুর ইউনিয়নে প্রধান সড়ক। বেনাপোল পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পৌরসড়কটি সংস্কারের জন্য বার বার পৌরসভায় ধর্ণা দিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। পৌরসভায় আগত বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে আছে পৌরসভার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারের কোন নাম গন্ধ নেই। শুষ্ক মৌসুমে এ সড়কে ধুলাবালি, আর বর্ষা মৌসুমে কাঁদাপানিতে পথচারীসহ স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসাগামী ছাত্রছাত্রীরা শিার্থীদের জামা-কাপড় নষ্ট হচ্ছে। খানাখন্দে পরিপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে ছোট ছোট গণপরিবহন। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বেনাপোল তিন নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০১১ সালের পর হতে এই সড়কটি আর সংস্কার করা হয়নি। এলাকাবাসীর জনদুর্ভোগের কথা জানিয়ে প্রাক্তন মেয়রদের কাছে বার বার তাগিদ দিলেও শুধু আশ্বাস দিয়েছে, রাস্তাটি সংস্কার কাজে উদ্যেগী হননি। গত কয়েক মাস আগে পৌরসভা হতে রাস্তাটি খুড়ে রুলার করে জনগনের চলাচলের উপযোগী বানালেও অজানা কারনে রাস্তাটি পিচ কার্পেটিং করে কাজ করেনি।
বেনাপোল কলেজ শিক্ষার্থী রাসেল মিয়া বলেন, আমাদের কলেজে যাতাযাতের একমাত্র এই সড়কটির বেহাল দশার কারণে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভাঙাচোরা আর গর্তে ভরা সড়কে চলাচল করতে খুবই সমস্যা হয়। গত কয়েকমাস পূর্বে বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বেনাপোল কলেজ পর্যন্ত ট্রাক্টর দিয়ে চষে সমান করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও আমাদের কলেজ যাবার একমাত্র পথটি এখনও সংস্কার করা হয়নি। অতি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিচ্ছি। বেনাপোল মহিলা আলিম মাদ্রাসার ছাত্রী রোকেয়া জানান, অনেক সমস্যার মধ্যে মাদ্রাসায় যাতাযাত করি রাস্তা ভাংঙ্গা বলে ভ্যান ও ইজিবাইক এই রাস্তায় যেতে চায়না। দীর্ঘ বছর রাস্তাটির কাজ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত যাতে রাস্তাটি হয় তার দাবি জানাচ্ছি। বেনাপোল পাঠবাড়ী মন্দির কমিটির যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক উজ্জল বিশ্বাস বলেন, বেনাপোল পৌরভবন সড়কে ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিবিজড়িত ৫শত বছরের হরিদাস ঠাকুরের পাঠবাড়ী আশ্রম রয়েছে যেখানে দেশ বিদেশ থেকে ভক্তরা আসেন। দীর্ঘ বছর ধরে সড়কটির বেহাল দশার কারণে ভক্ত-অনুরাগী সহ স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী, রোগী, অফিসগামীদের যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ন এই সড়কটি অতিদ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়