কীটতত্ত্ববিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এ বছর ডেঙ্গুর বিস্তার একটু বেশিই হতে পারে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির দুর্বলতার কারণে মশার ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে না কমা, আগাম ও টানা বৃষ্টিপাতের ধরনসহ নানা লক্ষণ ও পরিণতি মিলিয়ে ডেঙ্গু বিস্তারের এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি বছর এরই মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট এক হাজার ৭১৭ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ৫০৩ জন এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ২১৪ জন। এ সময় ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে একজন ঢাকায় এবং বাকি তিনজন ঢাকার বাইরে।ডেঙ্গু নিয়ে মানুষ যতটা আতঙ্কিত, ততটা সচেতন নয়। এই অসচেতনতাও ডেঙ্গুর অত্যধিক বিস্তারের জন্য দায়ী।
শহরাঞ্চলে ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস ইজিপটাই প্রজাতির মশা। এই মশা নালা-নর্দমার নোংরা পানিতে নয়, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। সাধারণত বাড়ির পাশে ফেলে রাখা টায়ার, নানা ধরনের পাত্র, ডাবের খোসা, ফুলের টব ইত্যাদিতে জমে থাকা পানিতে, এমনকি ঘরের ভেতর কোনো পাত্রে জমে থাকা পানিতেও এরা বংশবিস্তার করতে পারে। খুব সামান্য পানি অর্থাৎ কোথাও এক চামচ স্বচ্ছ পানি জমা থাকলেই তাতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় বড় বাড়ি বা ডুপ্লেক্সে এডিস মশার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এর প্রধান কারণ কেয়ারটেকারদের অসচেতনতা এবং ছাদ বা বাগানে জমে থাকা পানি। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৃষ্টির পর লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা হতে প্রায় ১৫ দিন লাগে। তাই মশার প্রকোপ কতটা বাড়ছে, তা দুই সপ্তাহ পর স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।
তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিউলেক্স মশা কিছুটা কমলেও এডিস মশার প্রজনন বাড়বে—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। বাড়ির মালিকদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, সপ্তাহে অন্তত এক দিন ছাদ ও বাগান পরিদর্শন করতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে অথবা কেয়ারটেকারদের কঠোরভাবে নির্দেশ দিতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ে এত হৈচৈয়ের পরও সিটি করপোরেশনের অভিযানের সময় দেখা গেছে, ৫ শতাংশের বেশি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। ঘরের ভেতরে ঢুকে তো আর ওষুধ ছিটানো সম্ভব নয়। তাই এ ব্যাপারে নাগরিকদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, সিটি করপোরেশনগুলো কার্যকর উদ্যোগ নিক। নাগরিকরা সর্বোচ্চ সচেতনতা দেখাক। সবার সম্মিলিত চেষ্টায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ থাবা থেকে আমরা রক্ষা পাই।

