খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে গুম, খুন ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং অসুস্থ ও দুস্থ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (৪ শনিবার) শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের চেক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল। শনিবার দুপুরে মহানগরীর হোটেল ওয়েস্টার্ন ইনে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মমিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, গত ১৭ বছর ধরে সারা দেশে যে গুম ও খুনের সংস্কৃতি কায়েম করা হয়েছিল, তার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া। দীর্ঘ দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ যে মুক্তির নিশ্বাস মানুষ নিচ্ছে, তা অর্জিত হয়েছে অসংখ্য ভাই-বোনের রক্ত আর স্বজনদের চোখের জলের বিনিময়ে। প্রধান অতিথি আরও বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ সহায়তা কোনো দয়া বা করুণা নয়, বরং এটি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায্য অধিকার। তিনি ঘোষণা করেন, যারা সন্তানদের গুম করেছে এবং মায়ের কোল খালি করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বাংলার মাটিতেই প্রতিটি খুনের বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিগত সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছিল এবং জেলা পরিষদকে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করেছিল। আজ সেই কলঙ্ক মুছে জেলা পরিষদ যখন জনগণের কল্যাণে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের গৌরব পুনরায় ফিরে আসছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা এই মানবিক উদ্যোগের জন্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে শহীদ ও নির্যাতিত পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে ২৩ জন শহীদ পরিবার ও ৫০ জন নির্যাতিত পরিবারসহ মোট ৭৩ জনকে ৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা ড্যাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবলুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী নেতারা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

