৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে

দেশে জ্বালানিসংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। একই সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হলেও মফস্বল শহর ও গ্রামাঞ্চলে জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কোনো কোনো এলাকায় আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। মধ্য এপ্রিলে তাপমাত্রা যখন ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করে, তখন এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুত্হীন থাকা যে কতটা কষ্টকর, তা কেবল ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারে। সবচেয়ে বেশি বিপদে আছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ। ঘেমে-নেয়ে অনেকের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন অসুস্থতা বেড়ে যাচ্ছে।এসব এলাকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদনে রীতিমতো বিপর্যয় নেমে আসছে।শুধু দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নয়, বর্তমান সময়ে অনেক কিছুই বিদ্যুতের সঙ্গে যুক্ত। বিদ্যুতের অভাবে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় বা শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে গেছে। বোরো ধানের ভরা মৌসুমে বিদ্যুত্চালিত সেচযন্ত্র দিনের বেশির ভাগ সময়ই চালানো যাচ্ছে না। প্রায় একই অবস্থা ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের ক্ষেত্রেও। অনেক স্থানে দেখা গেছে, পানির অভাবে বোরো জমি ফেটে চৌচির হয়ে আছে। এতে বোরো উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার প্রভাব পড়তে পারে খাদ্য নিরাপত্তায়। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়তে পারে।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য বলছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় দেশে ১৪ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৩২৪ মেগাওয়াট। তখন চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি ছিল দুই হাজার ২৬ মেগাওয়াট। বিপিডিবির তথ্য বলছে, আগামী মাসে বিদ্যুতের চাহিদা উঠতে পারে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াটে। পর্যাপ্ত জ্বালানির ব্যবস্থা করা না গেলে এই বাড়তি চাহিদার সময় ব্যাপকভাবে লোডশেডিং হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি আমদানিতে জটিলতা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল সমস্যার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কয়লা চলে আসায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় আবার চালু হচ্ছে। তাদের আশা, শিগগিরই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরই মধ্যে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট চালু হয়েছে। পাশাপাশি এসএস পাওয়ার প্লান্টের একটি ইউনিটও পূর্ণ সক্ষমতায় (ফুল লোডে) উৎপাদনে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা আসছে এবং আনলোড প্রক্রিয়া চলছে। আমাদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর কয়লা আনার উদ্যোগ কেন? উৎপাদন অব্যাহত থাকা অবস্থায় কেন কয়লা আমদানি করা যায় না?
এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার। আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। তবে রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাহুল্য বর্জন, এমনকি পারিবারিক পর্যায়েও অমিতব্যয়িতা পরিহার করার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাই।’
আধুনিক জনজীবন বিদ্যুতের অভাবে রীতিমতো অচল হয়ে পড়ে। জনগণের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। আমরা আশা করি, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়