আবু আফজাল সালেহ
প্রান্তিকে দাঁড়িয়ে
ভালোবাসা হতে-না-হতেই
ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলো
সামনে অনন্ত পাহাড় পড়ে আছে
তোমাকে পেরিয়ে যেতে মন চায় না
নীল ফড়িং যেদিন গান হয়ে যাবে
ঝরাপাতা যেদিন সুর হয়ে যাবে
তার অপেক্ষায় সরু প্রান্তিকে দাঁড়িয়ে
****
ভাঙনের নিচের বিকেল
হেমন্ত গোধূলির মতো দীর্ঘশ্বাস পাতা ঝরে
নিখোঁজ চিঠির মতো আলো জ্বেলে
মাঝখানে সাঁকো—আমরা দাঁড়িয়ে
সজল মেঘের মতো উচ্ছল দুটি প্রাণ
গীতবিতান হয়ে নিরুদ্দেশ
****
গোধূলির চিঠি
সূর্যাস্ত খাচ্ছে গিলে আকাশ-নীল
দুটি পাখি খাচ্ছে দোল মেঘের কোলে
সূর্য ঘিরে
বুকের ব্যথা হঠাৎ করে যাচ্ছে বেড়ে
ব্লাডপেসারেরও একই ঢং
খুলতেই চিঠি, লেখা আছে
‘চলে এসো শুক্রবারে’
হালকা জোরের ঝড় এসে
চৈত্রের চিঠি উড়ে গেলো
তাকিয়ে দেখি সবুজ মাঠে
হাওয়ার বেগ এলোমেলো
****
প্রসঙ্গ
আঁচে পুড়ে যায় পাঁজর
তবু সিম্ফনি বাজে সুমধুর
ভেঙেচুরে পড়ে থাকে বিভিন্ন চর, বরেন্দ্রভূমি
তবুও এঁকে যাই স্বপ্নভূমি
যদি হয় প্রসঙ্গ
ঋণ নিয়েও বেঁচে থাকতে রাজি
****
অন্ধকার বোঝে না যে, সে অন্ধকার
বছরের পর বছরের ক্ষত বয়ে
আজও দাঁড়িয়ে
তোমার সামনে রক্ত গোলাপ
চূড়ান্ত আঘাতে ক্ষত নেই
সামান্য আঘাতের ব্যথা
অমর
অন্ধকার বোঝে না যে, সে অন্ধকার

