নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুর মসজিদ বাজারে হঠাৎ করেই নেমে এসেছে ভয় ও অনিশ্চয়তার আবহ। বেচাকেনার স্বাভাবিক পরিবেশ ভেঙে দিয়ে সেখানে এখন প্রধান আলোচনার বিষয়—নিরাপত্তা। বোমা হামলার হুমকি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ ঘিরে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা সোমবার কোতোয়ালি থানায় গিয়ে অবস্থান নেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা ফিরে গেলেও আতঙ্ক কাটেনি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের সাবেক নৈশ প্রহরী মহিউদ্দিন ও তার ছেলে সোহেল দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত। নতুন কমিটি গঠনের পর মহিউদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে ক্ষোভে তিনি ও তার ছেলে বাজারের ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে হুমকি-ধমকি শুরু করেন। ঝুমঝুমপুর মসজিদ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী রহমত উল্যাহ বলেন, দায়িত্বে থাকাকালীন সময়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে অব্যাহতি দিই। এরপর থেকেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তার ছেলে সোহেল প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ করেছে, এমনকি বোমা হামলার হুমকিও দিয়েছে। ঘটনার এক পর্যায়ে সোমবার সকালে উত্তেজনা আরও বাড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা বিষয়টি জানতে মহিউদ্দিনের বাড়িতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানে সোহেল সরাসরি বোমা হামলার হুমকি দেন বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। এরপরই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজারের দোকানপাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে অবস্থান নেন। তাদের একটাই দাবি—দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা এবং স্থায়ী নিরাপত্তা। এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ইনস্পেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, ‘ঘটনার পরপরই আমরা বাজার এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’ তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে-শুধু আশ্বাসে কি কাটবে ব্যবসায়ীদের ভয়? নাকি প্রয়োজন দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ? ঝুমঝুমপুরের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, স্থানীয় বাজারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। এখন সবার নজর-পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপে।

