অভয়নগর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে ভুল চিকিৎসা, ভুল রিপোর্ট ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে রিজিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী স্বামী। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত সাখাওয়াত মোল্যার ছেলে মোঃ সুলাইমান তার স্ত্রী সাদিয়া (২৫)-এর মৃত্যুর জন্য হাসপাতালটির ভুল রিপোর্ট ও অবহেলাকেই দায়ী করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ এপ্রিল তলপেটে ব্যথা ও রক্তপাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হলে সাদিয়াকে রিজিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়। দুইদিন চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক বলে জানিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেয়। তবে বাড়িতে ফেরার পর সাদিয়ার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে গত ৩ মে তাকে নওয়াপাড়া সরকারি হাসপাতালের সামনে অবস্থিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে পরীক্ষায় বাম অ্যাডনেক্সাল অঞ্চলে সিস্ট সদৃশ একটি পিণ্ড শনাক্ত হয়। তখন দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পরবর্তীতে সাদিয়াকে খুলনার আদ-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। গত ৫ মে বিকেলে অস্ত্রোপচার শেষে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে ৬ মে রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়। রিজিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিকে ডাঃ আইয়ুব আলী আল্ট্রাসোনো রিপোর্টে উল্লেখ করেন সিস্টাইটিস যার মানে হল মূত্রাশয়ের একটি প্রদাহ যা সাধারণত মূত্রাশয় সংক্রমণের কারণে ব্যাকটেরিয়া হয়। আর খুলনার আদ দ্বীন হাসপাতালের আলটাসোনো রিপোর্টে আসে একটোপিক প্রেগন্যান্সি যার মানে হল গর্ভাবস্থার একটি জটিলতা যেখানে ভ্রূণ জরায়ুর বাইরে নালীর সাথে সংযুক্ত হয়। এ বিষয়ে রিজিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতালের পরিচালক ও ডাক্তার আইয়ুব আলী জানান, এ বিষয়টা আমার অবগত নয়। কারো যদি আমার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে তাহলে আমার কাছে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মোঃ সুলাইমান বলেন, “আমাদের দেড় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। রিজিয়া মেমোরিয়াল হাসপাতালের ভুল রিপোর্ট ও অবহেলার কারণে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাইনি। এতে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আমি এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন আর কোনো শিশু মা হারানো না হয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগেও চিকিৎসা অবহেলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তারপরও কীভাবে তারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে—তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি। উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট রাতে সাবিনা ইয়াসমিন নামের এক গর্বের শিশুসহ মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়াও এর আগে বেশ কয়েকজন এই হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারনে মৃত্যুবরণ করেছে। প্রতিবারই কোন অজানা কারণে কোন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্যকর্মকর্তা আলিমুল রাজিব জানান, এ বিষয়ে অভয়নগর থানা সহ আমাদের কেউ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম নুরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এখন কাজে ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো।

