২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ  । ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ 

চিকিৎসককে মারলেন রোগীর স্বজনরা, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় প্রেরণ

প্রতিদিনের ডেস্ক:
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে শনিবার সকালে ঢাকায় নেওয়া হয় মারধরে আহত চিকিৎসক নাসির ইসলামকে।শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধর করেছেন স্বজনরা। পাশাপাশি ভাঙচুর চালানো হয়েছে হাসপাতালটিতে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ। গুরুতর আহত চিকিৎসককে শনিবার (১৬ মে) সকালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে হামলার ওই ঘটনায় আহত অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ (৫৮), আনসার গার্ড কমান্ডার এপিসি আব্বাস আলী (৪৬), আনসার সদস্য সোহেল সরদার (২৫), কামরুল (৩০), আজিজুল হক (২৬) ও কাউসার (২৮) সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু অভিযোগ তুলে রাত ১টার দিকে লাল মিয়া কাজীর স্বজনরা ৭০/৮০ জন মিলে চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর চড়াও হন। হামলাকারীরা ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে নাসিরের মাথায় পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং কিল–ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করেন। এসময় হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার ও ৫ আনসার সদস্য চিকিৎসককে উদ্ধার করতে গেলে তাদেরকেও মারধর করে আহত করা হয়। পরে চিকিৎসক নাসিরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশংকাজনক অবস্থায় আজ শনিবার সকালে আহত চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামকে রুম থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করছে কিছু লোক। এরপর শুরু হয় কিল-ঘুষি। নিজেকে রক্ষায় একাধিকবার চেষ্টা চালালেও ব্যর্থ তিনি। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা। একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালের বাহিরে নিয়ে চালানো হয় কয়েক দফা হামলা। এতে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হয় ওই চিকিৎসক। আহত চিকিৎসকের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই ৪৮ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিন মাস আগে চিকিৎসা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে। সে সব সময় মানুষের সেবা করার কথা জানিয়েছে। মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে কেউ ভুল বুঝে যদি এমন হামলা চালায় এটি ন্যাক্কারজনক। তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। একজন চিকিৎসক যদি হাসপাতালে নিরাপদ না থাকে, তাহলে তারা কীভাবে চিকিৎসা সেবা দেবে। আমরা এই ঘটনায় দোষীদের বিচার চাই।” শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মিতু আক্তার বলেন, “আমাকে ওই চিকিৎসক জানান, একজন রোগী মারা যাওয়ার পর উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আমি বিষয়টি দ্রুত পুলিশ ও ইউএনও ম্যামকে জানাই। আমি এসে দেখি, আমাদের চিকিৎসক নাসির ইসলামকে গুরুতরভাবে মাথায় আঘাত করে আহত করা হয়েছে। শতাধিক লোক এই হামলায় জড়িত ছিল। ইতোমধ্যে আমাদের আহত চিকিৎসককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।” সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রত্যেক দোষীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান। তিনি বলেন, “চিকিৎসকরা রোগীদের বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। তাকেই হত্যাকারী অপবাদ দিয়ে তার ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করছি। শুক্রবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে এক উস্কানিদাতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” এদিকে, ঘটনার খবর জানতে পেরে হাসপাতালে গিয়ে আহত চিকিৎসকের খোঁজ নিয়েছেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি বলেন, এখানে যে ঘটনা ঘটেছে তার সুষ্ঠু বিচার আমরা চাই।”

আরো দেখুন

Advertisment

জনপ্রিয়