রেজাউল করিম, লোহাগড়া
নড়াইলের লোহাগড়ায় রাস্তার মাটি কেটে চার বছর ধরে চলছে কালভার্ট নির্মাণের কাজ। বছরের পর বছর ধরে ফেলে রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার সাধারন মানুষ। নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মধুমতি-নবগঙ্গা উপ-প্রকল্প পূর্ণবাসন ও নবগঙ্গা নদী পুণঃখনন/ড্রেজিং এর মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা প্রকল্প (১ম সংশোধিত) এর আওতায় লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মাকড়াইল গ্রামের ফুরকানের দোকানের সামনে জেলের খালের ওপর একটি কালভার্ট নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় ২০.৫৭ ফুট দৈর্ঘ্যের খালের ওপর ৯২ লাখ ৭শ ২৬ টাকা চুক্তিতে কালভার্ট নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ওয়াহিদুজ্জামান। ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কাজটি শেষ করার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দফায় দফায় কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় নেন। শনিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটি খনন করে ফেলে রেখেছে। মাকড়াইল গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন জানান, দীর্ঘদিন মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু কালভার্টটি না হওয়াতে এলাকার জনসাধারন ভোগান্তিতে পড়ছে। ঠিকাদার ঠিক মত কাজ করে না। মাঝে মাঝে আইসে একটু কাজ করে আবার চলে যায়। আর মাটি খুঁড়ে রাখায় প্রায়ই এখানে ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। আমরা আছি বিপদে, গাড়ি-ঘোড়া চালাতি পারছি না। সামনে বর্ষাকাল দ্রুত কাজটি শেষ করলে আমরা একটু বাঁচতাম। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ওয়াহিদুজ্জামানের (০১৭১১২০৭৯৪১) মুঠোফোনে কল দিয়ে তা বন্ধ পাওয়া যায়। যে কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে লিখিত এবং মৌখিকভাবে চাপ দিচ্ছি। ২০২৬ সালের জুন মাসে এই প্রজেক্ট শেষ হয়ে যাবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে যদি কাজটি শেষ করতে না পারেন তাহলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।

